হৃদরোগ হাসপাতালে ‘সিন্ডিকেটের’ প্রভাবের অভিযোগ | ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে একটি চিকিৎসক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, পদায়ন-বদলি থেকে শুরু করে ইউনিট, কক্ষ ও বাসা বরাদ্দ—বিভিন্ন বিষয়ে একটি কথিত ‘সিন্ডিকেট’ প্রভাব বিস্তার করছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কথিত একটি চিকিৎসক সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আবদুল ফজল খবির উদ্দিন আহমেদ। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিলেও প্রায় দেড় বছর পরও হাসপাতালের মধ্য ব্লকের ৩৩৭ নম্বর কক্ষটি তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ। সরেজমিনে ওই কক্ষের সামনে দেখা গেছে ‘বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির অস্থায়ী কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড। অথচ সংগঠনটির হাসপাতালের বাইরে স্থায়ী কার্যালয় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ডা. খবিরের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন চিকিৎসক হাসপাতালের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন। পদায়ন-বদলি, যোগদানপত্র গ্রহণ, কার্ডিওলজি বিভাগের ইউনিট বণ্টন, কক্ষ ও বাসা বরাদ্দ এমনকি টেন্ডার কার্যক্রমেও তাদের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ৯ জুলাই পরিচালকের কক্ষে একদল চিকিৎসক গিয়ে কার্ডিওলজি বিভাগে ইউনিট বরাদ্দের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, অধ্যাপক পদে পদোন্নতির পর একই হাসপাতালে পদায়ন পাওয়া ডা. জাফরিন জাহানের যোগদান নিয়েও জটিলতার অভিযোগ উঠেছে। পরে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় তার যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাওয়ার কারণ হিসেবে বদলি, হয়রানি ও প্রশাসনিক চাপের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক ডা. আবদুল ফজল খবির উদ্দিন আহমেদ। তার দাবি, তিনি কোনো কক্ষ ব্যক্তিগতভাবে দখলে রাখেননি এবং পদায়ন-বদলি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগও সত্য নয়। সরকারি হাসপাতালের কক্ষ ব্যবহার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কথিত প্রভাব এবং টেন্ডার ও পদায়ন-বদলি নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।