মেনন-কামরুলের মামলায় ছাত্র সাকিবের জবানবন্দি | ছবি: সংগৃহীত
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. সাকিব আহম্মেদ তুলন। সোমবার ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেন তিনি। পরে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এই মামলায় মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন ধরনের উসকানি দেন। এছাড়া নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে সাকিব আহম্মেদ তুলন বলেন, ১৮ জুলাই তিনি বাড্ডা পোস্ট অফিস রোড ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন। তার দাবি, সেখানে পুলিশ টিয়ারশেল ও ছররা গুলি ছোড়ে এবং অনেকে আহত হন। পরদিন ১৯ জুলাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় রামপুরা ব্রিজের দিকে যাওয়া মানুষের ওপর পুলিশ ও বিজিবির গুলি চালানোর দৃশ্য দেখেছেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি। সাকিব বলেন, ওই সময় তার সহযোদ্ধা মারুফ গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাধার মুখে পড়তে হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারুফের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি। জবানবন্দিতে হাসপাতালের পরিস্থিতি, গুলিবিদ্ধদের ভিড় এবং কারফিউ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার কথাও তুলে ধরেন সাকিব। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে বাড্ডাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ২৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মেনন ও কামরুল গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।