ইবোলায় ডিআর কঙ্গোতে ১,৭০৭ জনের মৃত্যু | ছবি: সংগৃহীত
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো—ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৮০২ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭০৭ জনের। এ ছাড়া ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার যে ধরনের ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি বিরল বুন্দিবুগিও ধরন। এই ধরনটির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা—ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক ওষুধ এবং ভ্যাকসিনের পরীক্ষা নজিরবিহীন দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডব্লিউএইচওর আর অ্যান্ড ডি ব্লুপ্রিন্ট কর্মসূচির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ভাসী মুরথি বলেন, আগের কয়েক বছরের প্রস্তুতির কারণে এবার গবেষকরা তুলনামূলকভাবে দ্রুত পরীক্ষামূলক ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে পেরেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রি-ক্লিনিক্যাল উপাত্ত আশাব্যঞ্জক। আগের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবার অনেক দ্রুত গবেষণা ও চিকিৎসা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব এবং দ্রুততম বিস্তার লাভ করা প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি। এ অবস্থায় আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কার্যকর টিকা ও চিকিৎসা উদ্ভাবনের দিকে এখন তাকিয়ে আছে ডিআর কঙ্গোসহ পুরো বিশ্ব।