ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে ডুবল তেল ট্যাঙ্কার | ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার জবাবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে একটি ট্যাঙ্কার ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ট্যাঙ্কার এবং ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে আরও একটি ট্যাঙ্কার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ট্যাঙ্কার ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস ও তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়নে ব্যবহৃত একটি গোপন নেটওয়ার্কের অংশ। মার্কিন হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে প্রায় ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এর মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। আরও পড়ুন, সংসদে আওয়ামী লীগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-তাহেরের তীব্র বিতর্ক নিয়োগে মেধার বদলে কোটা প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা জামায়াতের ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় শনাক্ত কয়েকজন অন্যদিকে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দুটি মার্কিন জাহাজ, আটটি তেল ট্যাঙ্কার এবং ১০টি ‘নিয়ম-বহির্ভূত জাহাজে’ হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকম বলছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়েছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। তবে পরে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এম/টি রিয়েস্কো নামের একটি ট্যাঙ্কার ওমান উপসাগরে ডুবে যায়। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ৪১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দামও বেড়ে হয়েছে ৯৪ ডলার ৫৫ সেন্ট। এদিকে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা বা হামলার চেষ্টা করলে তাদের আরও ট্যাঙ্কার হারাতে হবে। এর আগে হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন আটকের দাবি করে ইরান। তবে সেন্টকমের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেটি অকার্যকর হয়ে পড়েছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন সামরিক সরঞ্জাম ছিল না। সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।