চীনের আকাশপথের নজরদারিতে আসছে নতুন প্রজন্মের বিমান | ছবি: সংগৃহীত
চীনের নতুন প্রজন্মের আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নজরদারির বিমান কেজে-৩০০০-এর সীমিত উৎপাদন শুরু হয়ে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেশটির একটি বিমান কারখানায় এ ধরনের একাধিক বিমান দেখা যাওয়ার পর এমন ধারণা করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। তবে বিমানগুলো চীনের সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূস্থানিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের স্যাটেলাইট চিত্রে চীনের শানসি প্রদেশের শিয়ান-ইয়ানলিয়াং বিমান চলাচল কমপ্লেক্সে চারটি কেজে-৩০০০ বিমান দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ার জোন এ তথ্য প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিমানগুলোর মধ্যে তিনটি প্রাথমিক উৎপাদন ব্যাচের অংশ হতে পারে। অন্যটি পরীক্ষামূলক নমুনা। তবে শুধু স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে উৎপাদন শুরুর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কেজে-৩০০০ কার্যকরভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হলে চীনের পুরোনো কেজে-২০০০ আগাম সতর্কতামূলক বিমানের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। নতুন বিমানটি আকাশপথে দূরপাল্লার নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাত কিংবা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিমান চীনকে কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে। আকাশ থেকে পাওয়া তথ্য যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সক্ষমতাও এর গুরুত্ব বাড়াতে পারে। বিমানটির রাডার প্রযুক্তি ও কার্যক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে উন্নত ডিজিটাল রাডার এবং আকাশে জ্বালানি গ্রহণের ব্যবস্থা থাকতে পারে। এসব প্রযুক্তি যুক্ত হলে দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান ও বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি চালানো সহজ হবে। তবে কেজে-৩০০০-এর উৎপাদন কতটা এগিয়েছে, কবে এটি চীনের সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হবে এবং এর প্রকৃত সক্ষমতা কতটা—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত স্যাটেলাইট চিত্রে পাওয়া তথ্য বিমানটির উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।