জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন বন্ধের আহ্বান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর | ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারে সংস্থাটির সনদের নীতি ও লক্ষ্যসমূহ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে জাতিসংঘকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ এবং গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িতদের দায়মুক্তির অবসান চেয়েছেন তিনি। শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন আরাগচি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এবং এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনরুদ্ধার রূপান্তর ব্যবস্থাপনা সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’। বৈঠকের শুরুতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘ সনদের নীতি ও লক্ষ্য রক্ষায় সাধারণ পরিষদের সভাপতির সক্রিয় ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। আরাগচি আশা প্রকাশ করেন ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পেশাদার ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। আরও পড়ুন, বাংলা সিনেমার মতো ‘ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে’: আসিফ মাহমুদ জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭৮ জনের ২৪৯ জনকে ছেড়ে দিল পুলিশ নিয়োগের দাবিতে দুই শতাধিক প্রার্থীর শাহবাগে অবস্থান জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে আরাগচি বলেন জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন বন্ধ করা জরুরি। বিশেষ করে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধের নীতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। এ সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িতদের দায়মুক্তির অবসান ঘটিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে নিজের দেশের অবস্থান জানান আরাগচি। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে ‘জোর-জবরদস্তি ও আধিপত্যবাদী আচরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ অব্যাহত থাকার দাবি করেন। হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর জন্য তিনি কথিত আগ্রাসী ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন। অন্যদিকে ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে আস্থা পুনর্গঠনকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে সামনে রাখা হয়েছে।