নেপালের বন্যায় প্রাণহানিতে গুতেরেসের গভীর শোক | ছবি: সংগৃহীত
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ জনে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন বলে জানা গেছে। নেপালে এমন ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এক বার্তায় তিনি বন্যায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। গুতেরেস বলেন, ভয়াবহ বন্যায় অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে দুঃখিত। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, নেপাল সরকারের নেতৃত্বে চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে জাতিসংঘের বিভিন্ন দল ও অংশীদাররা সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে নেপাল পুলিশ জানিয়েছিল, বন্যা ও ভূমিধসকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁতে সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়। তবে পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থাও অনেক জায়গায় ব্যাহত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযানও চলছে। এদিকে নেপালের এই কঠিন সময়ে দেশটির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নেপালে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজদের উদ্ধার এবং দুর্গত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া।