মানচিত্রে ও সৌদির নতুন পাঠ্যবইয়ে নেই ‘ফিলিস্তিন’ নাম | ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের নতুন পাঠ্যবইয়ে ফিলিস্তিন ও জেরুজালেম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-সের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের নতুন শিক্ষাক্রমের কিছু মানচিত্র থেকে ‘ফিলিস্তিন’ নামটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একই মানচিত্রে ‘ইসরায়েল’ নামটিও উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার বই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’—এমন একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। ইমপ্যাক্ট-সের মতে, আগের এই বক্তব্য জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্য গোষ্ঠীর মধ্যকার চলমান সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে উপস্থাপন করতে পারত। শুধু জেরুজালেম বা মানচিত্র নয়, ইসরায়েল নিয়ে ব্যবহৃত ভাষাতেও পরিবর্তন এসেছে। একাদশ শ্রেণির ইতিহাসের একটি বইয়ে ‘ইহুদিবাদী শত্রু’ শব্দের পরিবর্তে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণা সংস্থাটির মতে, এতে ইসরায়েলবিরোধী ভাষার তীব্রতা কিছুটা কমেছে। ধর্মীয় বিষয়েও এসেছে পরিবর্তন। একটি ইসলামী শিক্ষা বই থেকে অমুসলিমদের পরকালে শাস্তির ইঙ্গিত দেওয়া একটি আয়াত বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এক অসুস্থ ইহুদি বালককে দেখতে যাওয়ার ঘটনা-সংবলিত একটি হাদিসও নতুন সংস্করণে রাখা হয়নি। ইমপ্যাক্ট-সে বলছে, সৌদি শিক্ষাক্রমে সামগ্রিকভাবে শান্তি, সহাবস্থান ও সহনশীলতার ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তবে সংস্থাটির পর্যালোচনায় এটিও বলা হয়েছে, কিছু পাঠে ইহুদিবাদীদের এখনো নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন সৌদি আরবের শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রতিক নীতি ও সামাজিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। তবে পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তনের পেছনে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।