সরকার গঠন নিয়ে কঠিন সমীকরণে নেতানিয়াহু | ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট কিংবা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি জোট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে দুই পক্ষেরই আরও আসন প্রয়োজন। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে সামনে এসেছে সম্ভাব্য চারটি পথ। প্রথমত, বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে সরকার গঠন করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া নিয়ে বিরোধী জোটের নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করছেন। দ্বিতীয় সম্ভাবনা জাতীয় ঐক্যের সরকার। এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং বিরোধী জোটের কোনো দলের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন হবে। তবে গাদি আইজেনকোট নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তৃতীয় পথ হলো বিরোধী শিবির থেকে সংসদ সদস্যদের নিজের পক্ষে টেনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। তবে বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনে রাজি নন। ফলে এই পথেও রয়েছে বড় রাজনৈতিক বাধা। চতুর্থ সম্ভাবনা আবারও জাতীয় নির্বাচন। ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচিত দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একজনকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। প্রথম দফায় দায়িত্ব পাওয়া নেতা ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। প্রথম ব্যক্তি ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনটি পর্যায়েও সরকার গঠন সম্ভব না হলে আবারও নির্বাচনের পথে যেতে পারে দেশটি। এদিকে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। ফলে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে ইসরাইলকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলাফলের পর ইসরাইলের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। এখন দেখার বিষয়, দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়, নাকি আবারও ভোটের মাঠে ফিরতে হয় দেশটির জনগণকে।