সোনার খনিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ৮২ | ছবি: সংগৃহীত
সোনার খনি ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার খনিটির সুড়ঙ্গগুলো ধসে পড়তে শুরু করে। ওই সময় সেখানে ছোট পরিসরে কয়েক ডজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বুধবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানিয়েছেন, খুব সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চলছে। তবে ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। এক শ্রমিক জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কতজন আটকা পড়ে আছেন তা এখনো জানা যায়নি। জীবিত কিংবা মৃত শ্রমিকদের উদ্ধারে সবাই কঠোর পরিশ্রম করছেন। তবে পাথর ও মাটি সরাতে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে। দক্ষিণ সুদানের এই অঞ্চলটি র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দেশটির সোনা বাণিজ্য যুদ্ধের অর্থায়নের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত। সুদানের অনেক এলাকায় কর্মসংস্থানের সংকট থাকায় বিপুলসংখ্যক তরুণ ঝুঁকি নিয়ে অনিয়ন্ত্রিত সোনার খনিতে কাজ করেন। এসব খনিতে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে কাছাকাছি থাকা অন্য সুড়ঙ্গও ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে। আল জারা খনিতেও একইভাবে একাধিক সুড়ঙ্গ ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। সুদানের সোনার খাতের বড় একটি অংশ হাতে ও ছোট পরিসরে পরিচালিত খনির ওপর নির্ভরশীল। এসব খনিতে শ্রমিকদের সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করতে হয়। পাশাপাশি সোনা উত্তোলনের সময় সায়ানাইড ও পারদের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। সুদান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী গত বছর প্রায় ৭০ টন সোনা উৎপাদিত হয়েছে। তবে উৎপাদিত সোনার বড় একটি অংশ পাচার হয়ে যায় বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।