প্রকাশ: ... | ... | ...

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ছাদ ধসে আহত নারী


সংযুক্ত ছবি

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ছাদ ধসে আহত নারী | ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন ২৫ বছর বয়সী এক নারী। চিকিৎসা শেষে কক্ষ থেকে বের হয়ে বারান্দায় পা রাখতেই হঠাৎ তার মাথার ওপর ভেঙে পড়ল ছাদের একটি অংশ। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘটনাটি ভারতের রাজস্থানের চুরু জেলার সরকারি দুর্গাদত্ত ফতেহপুরিয়া মাতৃ ও শিশু হাসপাতালে। বুধবারের এ ঘটনার পুরো দৃশ্য ধরা পড়েছে হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায়। ফুটেজে দেখা যায়, কিরণ মেঘওয়াল নামের ওই নারী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালের একটি কক্ষ থেকে বের হচ্ছেন। কয়েক মুহূর্ত পরই বারান্দার ছাদের একটি অংশ বিকট শব্দে তার ওপর ধসে পড়ে। এতে আহত হন তিনি। দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আবারও চিকিৎসা দেওয়া হয় হাসপাতালে। তবে এ ঘটনায় হাসপাতালের অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগ আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। সুজানগড়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. পুরুষোত্তম কারওয়া জানিয়েছেন, গত ৪ আগস্ট মেরামতের বিষয়ে জনকল্যাণ নির্মাণ বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে আবারও চিঠি দেওয়া হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে—মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কেন তার আগেই ধসে পড়ল হাসপাতালের ছাদ? আর এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর নিচে রোগী ও স্বজনদের চলাচল কেন বন্ধ করা হয়নি? ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজস্থান সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস ঘটনাটিকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিসিটিভির ভিডিও প্রকাশ করে কংগ্রেস নেতারা দাবি করেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। এ ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছে আম আদমি পার্টিও। তারাও ভিডিও প্রকাশ করে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। চিকিৎসা নিতে এসে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া কিরণ মেঘওয়ালের ঘটনাটি এখন রাজস্থানের সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।