ইরানে এক লিটার পেট্রোলের দাম প্রায় ৯ লাখ রিয়াল | ছবি: সংগৃহীত
আগামী ১৯ আগস্ট ইরান জ্বালানি এক্সচেঞ্জে ২ লাখ ৪০ হাজার লিটার আমদানিকৃত উন্নতমানের পেট্রোল বিক্রি করবে। রোববার ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোলের প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ইরানি রিয়াল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য কত, তা বিনিময় হার অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। নিলামে পেট্রোলের সর্বনিম্ন দাম হবে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫০ রিয়াল এবং সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৪১ হাজার ৮৫০ রিয়াল। ইরান এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও আমদানিকৃত পেট্রোল বিক্রি করেছিল। তখন প্রতি লিটারের দাম ছিল ৬ লাখ ৫৮ হাজার রিয়াল। এদিকে যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে ইরানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস, যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয়—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তেহরানের ২৬ বছর বয়সী শিক্ষক সাঈদ আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, বর্তমান চাকরির বাজার নিয়ে তিনি হতাশ। শিক্ষকতা, ক্যাশিয়ার ও বিক্রয়কর্মীদের অনেকের মাসিক আয় ২০০ মিলিয়ন ইরানি রিয়াল বা প্রায় ১০৭ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে তিনি দাবি করেন। কিছু চাকরিতে বেতন আরও কম—প্রায় ১৬৬ মিলিয়ন রিয়াল বা ৮৮ ডলার। সাঈদের ভাষ্য, চাকরির বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক তরুণ কাজ খুঁজতেও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সাধারণ মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধানও বাড়ছে। একটি সাধারণ পরিবারের মাসিক আয়ের বড় অংশ চলে যাচ্ছে খাবার, বাসাভাড়া ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে। বিশ্লেষকদের মতে, আমদানিকৃত পেট্রোলের উচ্চমূল্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ইরানের অর্থনীতিতে চলমান চাপেরই প্রতিফলন। জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।