প্রকাশ: ... | ... | ...

জুলাই মিউজিয়ামে মূর্তি ও ভাস্কর্য নির্মাণ: সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান রাখা জরুরি।


সংযুক্ত ছবি

জুলাই মিউজিয়ামে মূর্তি ও ভাস্কর্য নির্মাণ: সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান রাখা জরুরি।

বাংলাদেশ একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ। এ দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কোনো জাতীয় স্থাপনা, জাদুঘর কিংবা ঐতিহাসিক স্মারক নির্মাণের ক্ষেত্রে এমন কোনো উপাদান সংযোজন করা উচিত নয়, যা দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করতে পারে। মূর্তি, ভাস্কর্য ও প্রাণীর প্রতিকৃতি নির্মাণ ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। বিশেষ করে কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আলেম-উলামা কিংবা ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি নির্মাণের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি স্পর্শকাতর। ইসলামী ঐতিহ্য ও শরিয়তের বিধান বিবেচনায় এ ধরনের প্রতিকৃতি নির্মাণ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। সম্প্রতি জুলাই মিউজিয়ামকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের মূর্তি, ভাস্কর্য ও মানব-প্রতিকৃতি নির্মাণের যে আলোচনা সামনে এসেছে, তা নিয়ে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জুলাইয়ের ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে প্রয়োজন; কিন্তু সেই স্মৃতি সংরক্ষণের নামে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। আমরা মনে করি, জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য মূর্তি বা ভাস্কর্যই একমাত্র মাধ্যম নয়। ছবি, আলোকচিত্র, লিখিত ইতিহাস, দলিল-দস্তাবেজ, ভিডিও, ডিজিটাল আর্কাইভ, শহীদ ও আহতদের স্মৃতিচারণ এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলির তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমেও একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করা সম্ভব। ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি রাষ্ট্রের সম্মান থাকা উচিত বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সকল নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মানের কথা বলে। তাই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো স্থাপনা নির্মাণের সময় ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যারা নিজেদের ইসলামী আদর্শ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন, তাদের দায়িত্ব এ ক্ষেত্রে আরও বেশি। কোনো ইসলামী দলের নেতা, আলেম বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি নির্মাণের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আলেমদের শরিয়তসম্মত মতামত নেওয়া প্রয়োজন। ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফতে রাব্বানী পার্টির প্রতিবাদ জুলাই মিউজিয়ামে নির্মিত বা নির্মাণাধীন মূর্তি, ভাস্কর্য ও মানব-প্রতিকৃতির বিষয়ে ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফতে রাব্বানী পার্টি বাংলাদেশ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আমাদের দাবি—সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং যেসব মূর্তি বা প্রতিকৃতি ইসলামী শরিয়ত ও দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো দ্রুত প্রত্যাহার বা অপসারণের ব্যবস্থা করবে। আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আমরা চাই সংলাপ, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হোক। সরকারের উচিত ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, আলেম-উলামা, ইতিহাসবিদ, সংস্কৃতিবিদ এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। প্রতিবাদ হবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সরকার যদি ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি উপেক্ষা করে এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিতর্কিত মূর্তি ও ভাস্কর্য নির্মাণ অব্যাহত রাখে, তাহলে এর বিরুদ্ধে ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফতে রাব্বানী পার্টি বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত আন্দোলন গড়ে তোলার কর্মসূচি ঘোষণা করার অধিকার সংরক্ষণ করে। আমাদের প্রত্যাশা—সরকার বিষয়টিকে কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে না নিয়ে গিয়ে সময়মতো উদ্যোগ গ্রহণ করবে। জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ হোক, তবে তা যেন বাংলাদেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাসকে সম্মান করেই করা হয়। ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে—কিন্তু ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে নয়। জাতীয় স্মৃতি রক্ষা করতে হবে—কিন্তু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাসকে উপেক্ষা করে নয়। সরকারের উচিত অবিলম্বে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য ও সর্বমহলে সম্মানজনক সমাধান গ্রহণ করা।