নাতনির সঙ্গে ওপেনিংয়ে ৭০ বছরের দাদি | ছবি: সংগৃহীত
চিলির ইভন ভিলডোসোলার ক্রিকেটে আসার গল্পটা অন্যরকম। ২০১৯ সালে ৬৩ বছর বয়সে প্রথমবার ক্রিকেট ব্যাট হাতে নেন তিনি। তখন ভাবেননি এই খেলাই একদিন তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে নিয়ে যাবে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে কোস্টারিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হয় ইভনের। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো ৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা ইভন মাঠে নামেন নিজের নাতনি ক্যামিলা ওয়ার্সের অধিনায়কত্বে। একই ম্যাচে তারা ওপেনিং ব্যাটার হিসেবেও খেলেন। সবকিছুর শুরু হয়েছিল নুবলেতে চিলি নারী ক্রিকেট দলের আয়োজিত ‘মা ও মেয়েদের’ একটি ক্রিকেট অনুষ্ঠান থেকে। তখন ১৬ বছর বয়সী ক্যামিলা তার দাদিকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। ইভন ভেবেছিলেন নাতনির বন্ধুদের জন্য রান্না করতেই মূলত অনুষ্ঠানে যাবেন। কিন্তু সেখানেই প্রথমবার হাতে ওঠে ক্রিকেট ব্যাট। এরপর ধীরে ধীরে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে তার। মেয়ে লরেটো এবং নাতনি ক্যামিলার অনুপ্রেরণায় নিয়মিত খেলাটির সঙ্গে যুক্ত হন। একসময় পারিবারিক আনন্দের সেই আয়োজনই পরিণত হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার যাত্রার ভিত্তিতে। আরও পড়ুন, মিরসরাইয়ের কেমিক্যাল কারখানায় আগুন তারেক রহমানের সাক্ষাৎ না পেয়ে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ৭০ বছর বয়সী ইভন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক সক্রিয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েন। যদিও নিজের খেলা দুটি ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। তবে তার কাছে রান কিংবা ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের চেয়ে অংশগ্রহণই বড় বিষয়। ইভন বলেন, ক্রিকেট তাকে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার সুযোগ দিয়েছে। বয়স ও জয়েন্টের সমস্যার কারণে বোলিংয়ের চেয়ে ব্যাটিং করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। বিশেষ করে সোজা ব্যাটে শট খেলাই তার পছন্দ। নাতনি ক্যামিলার জন্যও দাদির সঙ্গে জাতীয় দলে খেলা ছিল আবেগঘন অভিজ্ঞতা। মাঠে দাদিকে নির্দেশনা দেওয়া কিছুটা অস্বস্তিকর হলেও বিষয়টিকে আনন্দের হিসেবেই দেখেন তিনি। কারণ সাধারণত দাদিকে নির্দেশ দেওয়ার অভ্যাস কারও থাকে না। চিলিতে ক্রিকেটের বিকাশও ইভনের মতো নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ তৈরি করেছে। দেশটিতে ক্রিকেট খুব বেশি জনপ্রিয় না হলেও প্রবাসী ও স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের উদ্যোগে ধীরে ধীরে খেলাটি ছড়িয়ে পড়ছে। ২০০৮ সালে চিলিতে ‘বিচ ক্রিকেট’ শুরু হয়। উপযুক্ত ক্রিকেট মাঠের সংকট এবং মাঠ ভাড়া করার ব্যয় বেশি হওয়ায় সমুদ্রসৈকতকে বেছে নেওয়া হয় খেলার জায়গা হিসেবে। শুরুতে মাত্র ৫০ জন অংশ নিলেও এখন এই আয়োজনের সঙ্গে প্রায় ৫০০ মানুষ যুক্ত হচ্ছেন। পরিবারকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ক্রিকেট আয়োজন নারী শিশু এবং বয়স্কদেরও খেলাটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। বাবা মা ছেলে মেয়ে সবাই একই দলে খেলতে পারেন। সহজ নিয়মে আয়োজন হওয়ায় ক্রিকেটকে সামাজিক মিলনমেলার অংশ হিসেবেও দেখছেন আয়োজকরা। আরও পড়ুন, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পেয়ে নিউইয়র্কে শামা ওবায়েদকে হেনস্তার চেষ্টা সাত দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প আইয়ুব বাচ্চুকে সম্মান জানাতে নতুন ব্যান্ড এবি কিং চিলি ক্রিকেটের কর্মকর্তাদের মতে, ইভন ভিলডোসোলার গল্প দেশটির ক্রিকেটে অন্তর্ভুক্তির একটি উদাহরণ। শুরুতে প্লাস্টিকের ব্যাট ও টেনিস বল দিয়ে তাকে ধীরে ধীরে ক্রিকেটে যুক্ত করা হয়েছিল। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আগ্রহ বাড়তে বাড়তে একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। চিলি নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ক্যামিলা ওয়ার্স মনে করেন, নতুন কোনো খেলাধুলা শেখার জন্য বয়স কখনোই একমাত্র বাধা হতে পারে না। আর দাদিকে জাতীয় দলের সতীর্থ হিসেবে পাওয়াটা তার নিজের এবং পুরো দলের জন্যই বিশেষ অভিজ্ঞতা। ৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইভনের অভিষেক তাই শুধু একটি ক্রিকেটীয় রেকর্ড নয়। এটি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে খেলাধুলায় যুক্ত হওয়া এবং বয়সের সীমা পেরিয়ে নতুন কিছু শেখার এক অনন্য উদাহরণ।