জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যাবে না। কারণ, তাঁর দাবি অনুযায়ী এই দুই দলই আগে আওয়ামী লীগের “সহযোগী” হিসেবে কাজ করেছে এবং ফ্যাসিবাদের স্থায়ী রূপায়ণে সহায়ক হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাইদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এনসিপির ঢাকা জেলা ও দুই মহানগর শাখার সমন্বয় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “এই দলগুলো আবার ক্ষমতায় এলে দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করবে।” তিনি দাবি করেন, বিগত দিনে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে তাদের বাদ দেওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, “জুলাই সনদের” (July Charter) আইনগত ভিত্তি সরকারের টেবিলে দ্রুত উপস্থাপন করতে হবে। আর যদি তা কাগুজে সিদ্ধান্তের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ হয়, তবে আমরা আবার রাজপথে নামব। আখতার হোসেন আরও বলেন, “আমরা দলবাজি নয়, মানুষের জন্য রাজনীতি চাই। সংখ্যা নয়, যোগ্যতা বিবেচনায় রাখতে হবে।” রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এনসিপি গত কয়েক মাসে পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক শক্তি ঘাটতির উদ্ধার নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। আখতার হোসেনের এ ধরনের তীব্র বক্তব্য দলটির নতুন রাজনৈতিক রূপায়নের ইঙ্গিত বহন করে। পূর্বে তিনি বলেছিলেন, “এই জুলাই সনদ যাতে একটি কাগজেই সীমাবদ্ধ না হয়।” বিশ্লেষণ নির্বাচনের আগে এই ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। দল হিসেবে এনসিপি এমন অগ্রগতি চায় যে বর্তমান ধারা ও শক্তিধর দলগুলোকে সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী বিচার করা হোক। আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন সংক্রান্ত আইন বেরিয়ে এসেছে কি না, এবং কি ব্যতিক্রমী কোন নিয়ম প্রবর্তন হবে কি না। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি এ ধরনের অভিযোগ স্বীকার করে কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তিক্ততা ও চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখিত দলগুলোর জবাবদিহি ও প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। আইনগত ও সংবিধানিক দিক থেকে কি ধরনের প্রক্রিয়া দরকার হবে এ রকম সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য—এই বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক পরিবেশ ইতোমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ; এমন বিবৃতি পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।