প্রকাশ: ... | ... | ...

ওয়্যারহাউজিং-কৃষিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান তারেক রহমানের


সংযুক্ত ছবি

ওয়্যারহাউজিং-কৃষিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান তারেক রহমানের | ছবি: সংগৃহীত

ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর প্রতিফলন হিসেবে বাংলাদেশকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ভ্রমণ পরামর্শে ইতিবাচক সংশোধন আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সার্জিও গর বলেন, এ পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। বৈঠকে আগামী মাসে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে। বাংলাদেশে এফডিএর পরীক্ষাকার্য পুনরায় শুরু করার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন সার্জিও গর। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন কর্পোরেশনের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। জবাবে বিশেষ দূত জানান, বাংলাদেশে ডিএফসির বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ঢাকায় মার্কিন বিনিয়োগকারীরা শিগগির একটি ইউএস ইনভেস্টর সামিট আয়োজন করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে তিনি নিজে কাজ করছেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন সার্জিও গর। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনা রাখে বলেও জানান তিনি এবং এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্ব পায়। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগের দিনের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সার্জিও গর বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সার্জিও গর বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আসিয়ানভুক্ত প্রতিবেশী দেশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।