চট্টগ্রামে হেঁটে বেরিয়ে জনতার শুভেচ্ছা নিলেন তারেক রহমান | ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখতে চট্টগ্রামের সড়কে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলেছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করেছেন। আবার কেউ অপেক্ষা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর এক ঝলক দেখার জন্য। জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে হেঁটে বেরিয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি রহমতগঞ্জ হয়ে মোমিন রোডের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাস ও কৌতূহল। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে দেখতে পেয়ে অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। তারেক রহমানও সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এতে উপস্থিত মানুষের মধ্যে উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। দুর্গোৎসবের আনন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি যুক্ত হওয়ায় পুরো এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। এর আগে মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে রংপুর ও রাজশাহীতে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রাতে চট্টগ্রামে এসে জেএম সেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের জন্য রাষ্ট্র সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং অনুষ্ঠান শেষে হেঁটে বেরিয়ে জনতার উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায়।