প্রকাশ :: ... | ... | ...

‘দেশের চাবি আপনার হাতে’: জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু


সংযুক্ত ছবি

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে আজ। শনিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ঘোষণায় এই তথ্য জানানো হয়। প্রচারণার মূল বার্তা— “দেশের চাবি আপনার হাতে”। ঘোষণার সঙ্গে প্রকাশিত ৪৮ সেকেন্ডের একটি টিজার ভিডিওতে দেখা যায়, গুম ও বিডিআর বিদ্রোহ হত্যাকাণ্ড তদন্ত কমিটির সাবেক সমন্বয়কারী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ড. খান সুবায়েল বিন রফিক প্রচারণায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, “সব অতীতের অধ্যায় পেছনে ফেলে বাংলাদেশ আজ তার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মালিকানা আপনাদের হাতে ফিরিয়ে আনতে হবে। নির্বাচন ২০২৬—দেশের চাবি আপনার হাতে।” ভিডিওটিতে আরও দেখানো হয় ২০২২ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যের একটি অংশ, যেখানে তিনি বলেন— “ভারতের কাছে আমি বলেছিলাম, শেখ হাসিনাকে সমর্থন করা উচিত, কারণ তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।” প্রচারণা শুরু হওয়ার ঘোষণার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ বলেন, “এই পোস্টটি সম্ভবত সরকার তাদের প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেছে। তবে এটি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নয়। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারবে।” নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার একই দিনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা জোরদারে তিন বাহিনী প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার রাষ্ট্র অতিথিশালা যমুনায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নজমুল হাসান, এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খালিলুর রহমান। তিন বাহিনী প্রধান প্রধান উপদেষ্টাকে নির্বাচনের জন্য নেওয়া প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। জানা গেছে, নির্বাচনের সময় ৯০ হাজার সেনা সদস্য, আড়াই হাজার নৌবাহিনীর সদস্য ও দেড় হাজার বিমান বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি বিশেষ পরিষেবা সংস্থা (service cell) স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। এদিকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠক শেষে সংসদের উচ্চ কিংবা নিম্নকক্ষে পিআর কিংবা গণভোট কবে হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রোববার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে সোমবার দুপুর ১২টায় সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করার কথা জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। তবে, উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে কে এই ব্রিফিং করবে সেটি এখনো জানায়নি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে জুলাই সনদে সাক্ষরের পর এটি বাস্তবায়নের যে সুপারিশ ঐকমত্য কমিশন দিয়েছে সেটি নিয়ে বিএনপি জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধপূর্ণ অবস্থান দেখা যাচ্ছে।