মিটার ভাড়া মওকুফে লাগবে ২৯ হাজার কোটি টাকা : সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী | ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ বিল থেকে মিটার ভাড়া পুরোপুরি মওকুফ করতে সরকারের প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত। সোমবার জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আলোচনায় বিরোধী দলের দাবির জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় সরকার আপাতত সবার মিটার ভাড়া পুরোপুরি মওকুফ করতে পারছে না। তবে গ্রাহক নিজ খরচে মিটার কিনে নিলে তাকে আর মাসিক মিটার ভাড়া দিতে হবে না। ভুতুড়ে বিল ও বিলিংয়ের অনিয়ম বন্ধ করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নীতি ও ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংকট কাটাতে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে মেয়াদ শেষে অবসরে যাওয়া পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই এ সপ্তাহ থেকে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এইচএফওভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিটও চলতি সপ্তাহে চালুর আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন কূপ খনন, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান, দুটি নতুন এফএসআরইউ এবং মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। এদিকে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শেষ করে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা ১৫ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে রুফটপ সোলার প্যানেল আমদানিতে বিশেষ সুবিধা এবং অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ সরকারের কাছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রির সুযোগ চালুর কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানি খাতকে সংকটমুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।