প্রকাশ: ... | ... | ...

রেডিওথেরাপির সিরিয়াল এক বছর পর, প্রশ্ন রোগীদের: ততদিন কি বাঁচব?


সংযুক্ত ছবি

রেডিওথেরাপির সিরিয়াল এক বছর পর, প্রশ্ন রোগীদের: ততদিন কি বাঁচব? | ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার ভয়াবহ সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো ক্যানসার রোগী। রেডিওথেরাপির জন্য প্রেসক্রিপশন জমা দিয়েও অনেক রোগীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এক বছরের বেশি সময়। টাঙ্গাইলের সখীপুরের আলেয়া বেগম কেমোথেরাপি শেষ করে রেডিওথেরাপির জন্য সময় পেয়েছেন ২০২৭ সালের মার্চ মাসে। আর কুমিল্লার মকবুল খানের সিরিয়াল আগামী বছরের জানুয়ারিতে। তাদের প্রশ্ন—চিকিৎসার আগ পর্যন্ত আদৌ বেঁচে থাকবেন তো? হাসপাতাল সূত্র বলছে, আটটি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে বর্তমানে কার্যকর রয়েছে মাত্র দুটি। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭৫টি থেরাপি দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও রোগীর চাপ সামাল দিতে ৯০ থেকে ১২০টি পর্যন্ত সেশন চালাতে হচ্ছে। সংকট শুধু রেডিওথেরাপিতেই নয়। হাসপাতালের সিটি স্ক্যান, এমআরআই, মেমোগ্রাফিসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক পরীক্ষা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা সীমিত। ওষুধ, রিএজেন্ট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে ক্যানসার শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের বহু পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। শয্যা সংকটে অনেক রোগীকে বারান্দা, মেঝে এমনকি সিঁড়ির নিচেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সিরিয়ালের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় দালালচক্র দ্রুত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে কয়েক হাজার টাকায় চিকিৎসা সম্ভব হলেও বেসরকারি হাসপাতালে একই চিকিৎসায় খরচ হচ্ছে প্রায় দুই লাখ টাকা। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ জানিয়েছেন, রোগীর চাপ হাসপাতালের সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। রেডিওথেরাপির পুরোনো মেশিনগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন দুটি মেশিন আনা হলেও স্থাপনের জটিলতায় এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে তিন শিফটে রেডিওথেরাপি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।