শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করছে সরকার | ছবি: সংগৃহীত
তৈরি পোশাক খাতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এলো। আজ রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। শনিবার রাজধানীর মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং বিভিন্ন কারখানা ও মার্কেটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ, শ্রমিক ও পথচারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল নতুন মজুরি বোর্ড গঠন। এ বিষয়ে সরকার এবং পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ একমত হয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিরাও বোর্ডে তাদের মনোনীত সদস্যদের নাম জমা দিয়েছেন। আজকের মধ্যেই বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তবে কিছু বহিরাগত রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তৈরি পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে। শনিবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় সড়ক অবরোধ ও কারখানা-মার্কেটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আশুলিয়ায় সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।