৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল | ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তার পদত্যাগের পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এগারো দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩টি বৈধ ভোট পড়ে। মির্জা ফখরুল পান ২৫৫ ভোট। আর অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। সরকারি ও বিরোধী দলের ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে অনুপস্থিত ছিলেন। সংসদে ক্ষমতাসীন দলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত ছিল। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় নির্ধারিত নিয়মে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে দলীয় অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় রাষ্ট্রপতিরা সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার ভূমিকা ও কার্যক্রমের দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনের।