ফুটপাতে জুতা সেলাইয়ের দোকানেই গড়ে উঠছে এক ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন | ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে ফুটপাতের এক কোণে ছোট্ট একটি জুতা সেলাইয়ের দোকান। আর সেই দোকানেই বাবার পাশে বসে বই হাতে মনোযোগ দিয়ে পড়ছে ছোট্ট প্রিয়জিত রবিদাস। অভাব-অনটন তার পথ রোধ করতে পারেনি। প্লে শ্রেণিতে পড়া এই শিশুর একটাই স্বপ্ন—বড় হয়ে একজন ডাক্তার হওয়া। প্রিয়জিতের বাবা সাগর রবিদাস পেশায় একজন চর্মকার। বছরের পর বছর আদালত চত্বরে জুতা সেলাই করে সংসার চালান। নিজে কখনো স্কুলে পড়ার সুযোগ পাননি। কিন্তু সন্তানদের শিক্ষিত করে নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি। অর্থাভাবে ছেলেকে প্রাইভেট পড়ানোর সামর্থ্য নেই। তাই স্কুল ছুটির পর ছেলে বাবার দোকানেই এসে পড়াশোনা করে। অবসর পেলেই বাবাও নিজের সামান্য শেখা জ্ঞান দিয়ে ছেলেমেয়েকে পড়ানোর চেষ্টা করেন। প্রিয়জিতের ছোট বোন রাখি রাণী রবিদাসও নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেও ভাইয়ের মতো বাবার পাশেই বসে পড়াশোনা করে। স্থানীয় আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এমন সংগ্রামী পরিবারের পাশে সমাজের বিত্তবান মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে এই শিশুদের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। এদিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় পৌরসভার পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।