প্রকাশ: ... | ... | ...

মক্কা সুরক্ষা জোটে যোগদান করা বিশ্বের সকল মুসলিম দেশের জন্য অপরিহার্য/ওয়াজিব।


সংযুক্ত ছবি

মক্কা সুরক্ষা জোটে যোগদান সকল মুসলিম দেশের জন্য ওয়াজিব। | ছবি: সংগৃহীত

সিলেট প্রতিনিধি:মুফতী ফয়জুল হক জালালাবাদী মক্কা সুরক্ষা জোটে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য—কুরআন-সুন্নাহ, ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও মানবিক সহযোগিতার অপরিহার্যতা ভূমিকা------ মুসলিম বিশ্ব আজ জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদ, ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। অথচ পারস্পরিক বিভাজন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং পরস্পরের সংকটে কার্যকরভাবে পাশে দাঁড়াতে না পারার কারণে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ সম্মিলিত শক্তির সুফল থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত। এই বাস্তবতায় পবিত্র মক্কা নগরী ও ইসলামের পবিত্র স্থানসমূহের নিরাপত্তা, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মুসলিম উম্মাহর অভিন্ন স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে একটি কার্যকর “মক্কা সুরক্ষা জোট” গড়ে তোলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। আমার ফিকহি অবস্থান হলো—মুসলিমদের পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব, নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা, জুলুম প্রতিরোধ এবং সম্মিলিত কল্যাণ সাধন শরিয়াহর সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, যে কোনো বৈধ ও ন্যায়ভিত্তিক কাঠামো যদি এসব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হয়, মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের উচিত তাতে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করা। নির্দিষ্ট কোনো “মক্কা সুরক্ষা জোটে” প্রত্যেক রাষ্ট্রের অংশগ্রহণকে ফিকহি অর্থে বাধ্যতামূলক বলার আগে অবশ্যই জোটের সনদ, শর্ত, কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো শরিয়াহর আলোকে যাচাই করতে হবে। ১. কুরআনের নির্দেশ—ঐক্যবদ্ধ হও, বিচ্ছিন্ন হয়ো না মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন— وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا অর্থ: “তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” —সূরা আলে ইমরান, ৩:১০৩। এই আয়াত শুধু ব্যক্তিগত জীবনে ঐক্যের শিক্ষা দেয় না; মুসলিম সমাজ ও উম্মাহর সামগ্রিক জীবনেও ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিভেদ পরিহারের একটি মৌলিক নীতি প্রতিষ্ঠা করে। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন— وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ অর্থ: “তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না; তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের শক্তি বিলীন হয়ে যাবে। —সূরা আল-আনফাল, ৮:৪৬। আজকের আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতাতেও এই আয়াতের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র দুর্বল; সমন্বিত রাষ্ট্র শক্তিশালী। ২. মুসলমান মুসলমানের ভাই—ভ্রাতৃত্ব শুধু আবেগ নয়, দায়িত্ব রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন— الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا “এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি ভবনের মতো—যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে।” —সহিহ বুখারি ২৪৪৬; সহিহ মুসলিম ২৫৮৫। অতএব কোনো মুসলিম রাষ্ট্র দুর্যোগে পড়লে অন্য মুসলিম রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল বিবৃতি দেওয়া নয়; সামর্থ্য অনুযায়ী মানবিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সহযোগিতার পথ খুঁজে বের করা। এটাই ইসলামী ভ্রাতৃত্বের বাস্তব রূপ। ৩. মক্কা সুরক্ষা জোট কেন প্রয়োজন? পবিত্র মক্কা মুকাররমা কোনো সাধারণ নগরী নয়। এটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের কেন্দ্র। কাবা শরিফ মুসলমানদের কিবলা এবং হজ বিশ্বের মুসলমানদের সবচেয়ে বৃহৎ আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সমাবেশগুলোর অন্যতম। সুতরাং মক্কা, মদিনা এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা শুধু একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে বিষয়টির পূর্ণ মর্যাদা উপলব্ধি করা হয় না। এগুলোর নিরাপত্তা ও হজযাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে এই সহযোগিতার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত— পবিত্র স্থানসমূহের নিরাপত্তা; হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা; সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিরোধ; মুসলিম দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান; দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে পারস্পরিক সহায়তা; শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা; অন্যায় আগ্রাসন ও নিরপরাধ মানুষের ওপর জুলুম প্রতিরোধ। অর্থাৎ মক্কা সুরক্ষা জোট কোনো আগ্রাসী সামরিক জোট নয়; বরং শান্তি, নিরাপত্তা, মানবিক সহযোগিতা ও মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষার একটি ন্যায়ভিত্তিক সহযোগিতা কাঠামো হওয়া উচিত। ৪. ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন শক্তির সম্ভাবনা বর্তমান বিশ্বে একক রাষ্ট্রের শক্তির চেয়ে আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক জোটের গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যদি নিরাপত্তা, কূটনীতি, গোয়েন্দা তথ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সংকট মোকাবিলায় সমন্বয় সৃষ্টি হয়, তাহলে মুসলিম বিশ্বের আন্তর্জাতিক দর-কষাকষির সক্ষমতা অনেক বাড়তে পারে। একটি সমন্বিত মুসলিম কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম— “এক দেশের বিপদ মানে সবার উদ্বেগ, আর এক দেশের নিরাপত্তা মানে সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা”— এই নীতিকে বাস্তব রূপ দিতে পারে। এতে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা না করে অভিন্ন স্বার্থে সহযোগিতা করতে পারবে। ৫. অর্থনৈতিক ঐক্য—মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা মুসলিম বিশ্ব শুধু ধর্মীয়ভাবে নয়, অর্থনৈতিকভাবেও বিশাল সম্ভাবনার অধিকারী। কোনো কার্যকর মুসলিম সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় নিম্নোক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে— ক. আন্তঃমুসলিম বাণিজ্য বৃদ্ধি মুসলিম দেশগুলো নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে পারে। খ. খাদ্য নিরাপত্তা যেসব দেশ খাদ্য উৎপাদনে শক্তিশালী, তারা খাদ্য ঘাটতিগ্রস্ত মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। গ. জ্বালানি সহযোগিতা তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলো পারস্পরিক স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা করতে পারে। ঘ. ইসলামী অর্থব্যবস্থা সুদমুক্ত অর্থায়ন, ইসলামি ব্যাংকিং, ওয়াকফ ও শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে যৌথ উন্নয়ন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। ঙ. যৌথ অবকাঠামো রেল, বন্দর, সড়ক, বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে যৌথ বিনিয়োগ মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও আন্তঃসম্পর্ক বাড়াতে পারে। ৬. সামাজিক ও মানবিক সহযোগিতা ইসলামের ভ্রাতৃত্ব শুধু রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে সীমাবদ্ধ নয়। এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। মক্কা সুরক্ষা জোটের অধীনে একটি Muslim Humanitarian Cooperation Mechanism প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে— ভূমিকম্প, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে দ্রুত সহায়তা; যুদ্ধ ও সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা; এতিম ও শরণার্থীদের সহায়তা; দরিদ্র দেশগুলোর স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়ন; চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ; ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। এটাই হবে হাদিসের “একটি ভবনের মতো” মুসলিম হওয়ার বাস্তব প্রয়োগ। ৭. নিরাপত্তা সহযোগিতা কেমন হবে? নিরাপত্তা সহযোগিতা অবশ্যই প্রতিরক্ষামূলক ও ন্যায়ভিত্তিক হওয়া উচিত। এর আওতায় থাকতে পারে— ১. সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ; ২. আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন; ৩. গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়; ৪. সাইবার নিরাপত্তা; ৫. দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম; ৬. সমুদ্র নিরাপত্তা; ৭. গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা; ৮. হজ মৌসুমে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্যায় আগ্রাসন, বেসামরিক জনগণের ক্ষতি বা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডকে ইসলামী ঐক্যের নামে বৈধতা দেওয়া যাবে না। ৮. কুরআনের ঐক্যের দর্শন—বৈচিত্র্যের মধ্যে সংহতি মুসলিম দেশগুলোর ভাষা, জাতি, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ভৌগোলিক বাস্তবতা এক নয়। মতপার্থক্য থাকবেই। কিন্তু মতপার্থক্য আর শত্রুতা এক বিষয় নয়। ইসলামী ঐক্যের অর্থ এই নয় যে সব মুসলিম রাষ্ট্র তাদের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব বিলুপ্ত করে একটি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বরং প্রত্যেক রাষ্ট্র নিজস্ব স্বাধীনতা বজায় রেখে অভিন্ন স্বার্থে সহযোগিতা করতে পারে। ঐক্য মানে একরকম হওয়া নয়; ঐক্য মানে অভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে দাঁড়ানো। ৯. মক্কা সুরক্ষা জোটে অংশগ্রহণের শরয়ি ভিত্তি শরিয়াহর দৃষ্টিতে মানুষের কল্যাণ, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, জুলুম প্রতিরোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন— وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى “তোমরা নেকি ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর সহযোগিতা করো।” —সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:২। অতএব কোনো মুসলিম রাষ্ট্র যদি এমন একটি বৈধ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামোয় অংশগ্রহণ করে যার উদ্দেশ্য নিরাপত্তা, শান্তি, মানবিক সহায়তা, পবিত্র স্থান সংরক্ষণ এবং মুসলিম জনগণের বৈধ স্বার্থ রক্ষা—তাহলে তার মূলনীতি ইসলামী সহযোগিতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফিকহি দৃষ্টিতে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জোটের নাম নয়, বরং তার উদ্দেশ্য, শর্ত, কার্যক্রম ও ফলাফল। যদি কোনো চুক্তি শরিয়াহবিরোধী অন্যায়, আগ্রাসন বা নিরপরাধ মানুষের ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে সেই অংশগ্রহণকে নিঃশর্তভাবে বৈধ বলা যাবে না। ১০. আমার ফতোয়ার মূল বক্তব্য “মক্কা সুরক্ষা জোটে সকল মুসলিম রাষ্ট্রের ঐক্য ও সহযোগিতা অপরিহার্য” মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, মানবিক সহায়তা, কূটনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, যদি প্রস্তাবিত মক্কা সুরক্ষা জোটের সনদ ও কার্যক্রম শরিয়াহসম্মত, ন্যায়ভিত্তিক, প্রতিরক্ষামূলক এবং মানবকল্যাণমূলক হয়, তবে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জন্য এতে যোগদান ও কার্যকর সহযোগিতা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; প্রয়োজনীয়তার মাত্রা পরিস্থিতিভেদে ওয়াজিব বা ফরজে কিফায়ার পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের ওপর “এই নির্দিষ্ট চুক্তিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিগতভাবে ফরজ” বলার জন্য চুক্তির পূর্ণ শর্ত ও বাস্তবতা পর্যালোচনা করা জরুরি। এটাই ফতোয়ার ক্ষেত্রে অধিক সতর্ক, ভারসাম্যপূর্ণ এবং শরিয়াহসম্মত পদ্ধতি। ১১. ঐক্যবদ্ধ মুসলিম বিশ্ব—দুনিয়ার সফলতা ও আখিরাতের নাজাতের পথ মুসলমানদের শক্তি শুধু অস্ত্র, অর্থ বা জনসংখ্যায় নয়; তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ঈমান, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক। কুরআন আমাদের বিভক্ত না হতে বলেছে এবং সতর্ক করেছে যে পারস্পরিক বিবাদ শক্তি ক্ষয় করে। তাই আজ প্রয়োজন— বিভেদ নয়—ঐক্য। প্রতিযোগিতা নয়—সহযোগিতা। পরস্পরের দুর্বলতা খোঁজা নয়—পরস্পরের শক্তি হওয়া। অন্যের বিপদে নীরব থাকা নয়—সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানো। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো যদি নিজেদের রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে পাশে রেখে অভিন্ন স্বার্থে একত্রিত হতে পারে, তাহলে তারা বিশ্বরাজনীতিতে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে। উপসংহার আজ মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু সম্মেলন নয়—কার্যকর ঐক্য। মক্কা সুরক্ষা জোট যদি পবিত্র স্থানসমূহের নিরাপত্তা, মুসলিম জনগণের শান্তি, মানবিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি বাস্তব প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়, তবে এটি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন— “তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সকলে মিলে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” এই আয়াত আজও মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি চিরন্তন আহ্বান। মক্কা হোক ঐক্যের কেন্দ্র, মুসলিম বিশ্ব হোক সহযোগিতার শক্তি, আর ন্যায়, শান্তি ও মানবকল্যাণ হোক সেই ঐক্যের লক্ষ্য। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সহযোগিতা সৃষ্টি করুন এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য শান্তি ও কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে মুসলমানদের কবুল করুন। আমিন। —মুফতী ফয়জুল হক জালালাবাদী