ইনানীতে আগুনের কারণে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ | ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন ৪২ ঘণ্টা পেরিয়েও নেভানো যায়নি। পানি ও বালু ছিটিয়ে দফায় দফায় চেষ্টা চালিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভে জমে থাকা গ্যাসের মজুদ শেষ না হওয়ায় আগুন আরও অন্তত সাত দিন জ্বলতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাস্থলের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে মাইকিং করে উৎসুক মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার ২৮ অক্টোবর দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড—বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ভূতত্ত্ব এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, ভূগর্ভের ওপরের স্তরে জমে থাকা পকেট গ্যাস নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে পারে। গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সরাসরি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়াসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে আপাতত সরাসরি আগুন নেভানোর পরিবর্তে গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ভোরে ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খননকাজ চলার সময় প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বেরিয়ে আসতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকেই অব্যাহতভাবে জ্বলছে আগুন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। তবে কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। পরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ইনানী থেকে মনখালী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাপেক্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকায় এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।