নোংরা পরিবেশ ও অতিরিক্ত ভাড়া ঢাকা-ভোলা রুটের | ছবি: বাংলাদেশ যুগান্তর
নদী, সমুদ্র আর চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দ্বীপ জেলা ভোলা। যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হলেও এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখনো নৌপথ বা লঞ্চ। পদ্মা সেতু হয়ে বরিশাল দিয়ে ভোলা যাওয়ার বিকল্প সুযোগ থাকলেও, আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য যাত্রীরা লঞ্চকেই বেশি পছন্দ করেন। তবে এই সুযোগে ঢাকা-ভোলা রুটের কর্ণফুলী-১২ লঞ্চে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী যাত্রী সিঙ্গেল কেবিনের টিকিট না পেয়ে দ্বিগুণ সমস্যায় পড়েন। এ বিষয়ে লঞ্চের সুপারভাইজার ও কেবিন ইনচার্জ মোঃ সজিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে ঢাকা-ভোলা রুটের অন্য একটি লঞ্চকে কর্তৃপক্ষ ছাড়ার অনুমতি দেয়নি। ফলে বিকল্প কোনো লঞ্চ না থাকায় কর্ণফুলী-১২ লঞ্চের সব কেবিন দ্রুত বুকিং হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ওই যাত্রী একটি ডাবল কেবিন চড়া দামে বুকিং করেন। তবে কেবিনে প্রবেশ করতেই দেখা যায় এক চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র। কেবিনের ভেতরে কোনো ফ্যান ছিল না, পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। এমনকি কেবিনে থাকা কম্বলগুলোও ছিল অপরিচ্ছন্ন, যা দেখে মনে হয় বিগত ঈদের পর আর পরিষ্কার করা হয়নি। কেবিন সংলগ্ন বাথরুমটির অবস্থাও ছিল অত্যন্ত নোংরা ও ব্যবহারের অনুপযোগী।ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়। রাতে কেবিনে খাবারের অর্ডার দিলে পরিবেশন করা হয় নিম্নমানের মোটা চালের ভাত। বোয়াল মাছের পিস বলে যা দেওয়া হয়েছিল, তা খেয়ে মনে হয়েছে সেটি ছিল পাঙ্গাশ মাছ।এই চরম অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কেবিন ইনচার্জ মোঃ সজিবকে ডেকে ক্ষোভ প্রকাশ করলে, তিনি নিজের দায় এড়িয়ে সমস্ত দোষ কেবিন বয়ের ওপর চাপিয়ে দেন। পরবর্তীতে অবশ্য তিনি কেবিনে একটি ফ্যানের ব্যবস্থা করে দেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে লঞ্চ ঘাটে পৌঁছানোর পর। সমস্ত ভোগান্তি মেনে নেওয়ার পরেও লঞ্চের কেবিন বয় ওই ডাবল কেবিনের জন্য যাত্রীর কাছ থেকে খাবারের বিল সহ ৩৫০০ টাকা ভাড়া আদায় করেন, যা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি বলে অভিযোগ। দ্বীপ জেলার সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের এই অসহায়ত্বকে পুঁজি করে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের এমন নোংরা পরিবেশ, নিম্নমানের খাবার এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী মহল।