প্রকাশ: ... | ... | ...

রামুতে লাখ টাকায় রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

রামুতে লাখ টাকায় রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগ | ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগের মধ্যেই কক্সবাজারের রামুতে তাদের অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, একজন রোহিঙ্গাকে ভোটার করতে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি পর্যালোচনায় রামুর খুনিয়াপালং, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, ঈদগড় ও গর্জনিয়ার বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে অন্তত ১২ জনের নতুন ভোটার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬, ৪৪, ৪৩ ও ৪১ বছর বয়সি ব্যক্তিও রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ভোটার তালিকায় স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে যাদের নাম রয়েছে, তাদের কাউকেই তারা চেনেন না। ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশ থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আরও দাবি, রামুতে অবৈধ পন্থায় প্রতিবছর শত শত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি ভোটার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে নির্বাচন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ অর্থের ভাগ পেতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক নুর মোহাম্মদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, সন্দেহজনক ভোটারদের জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়, ঠিকানা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যয়ন পুনরায় যাচাই করা হোক। রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার করার ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তা ও নির্বাচনি স্বচ্ছতার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। অর্থের বিনিময়ে যারা এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।