রাশেদ খানের পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় ডিআরইউর নিন্দা | ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের প্রকাশ্যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি—ডিআরইউ। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। রোববার ১ নভেম্বর ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। বিবৃতিতে তারা বলেন, সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা শুধু একটি পত্রিকার প্রতি অবজ্ঞা নয়, বরং মুক্ত সাংবাদিকতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবমাননা। কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনে ভুল থাকলে কিংবা কোনো বক্তব্যে আপত্তি থাকলে প্রতিবাদ জানানো এবং আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না। মতের অমিলের জবাব দিতে হবে যুক্তি ও তথ্য দিয়ে। ডিআরইউ নেতারা আরও বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদন অপছন্দ হলে তার সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু সমালোচনার নামে সংবাদপত্রের প্রতি অবমাননাকর আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ প্রত্যাশিত। রাজনৈতিক পদ বা ক্ষমতার অবস্থান কাউকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কিংবা সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের অধিকার দেয় না। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় বিভিন্ন মতাদর্শের সাংবাদিক কাজ করেন উল্লেখ করে ডিআরইউ নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের রাজনৈতিক বিশ্বাস বা পেশাগত অবস্থান যা-ই হোক, তাদের মর্যাদা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবাদ জানানোই গণতান্ত্রিক পথ। বিবৃতির শেষাংশে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা এবং অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানায় ডিআরইউ। সংগঠনটির বক্তব্য, সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা যায়, কিন্তু সত্য প্রকাশের আকাঙ্ক্ষাকে ছিঁড়ে ফেলা যায় না।