প্রকাশ: ... | ... | ...

৪ হাজার টাকায় শিশুর পেটকে ‘কুরিয়ার’ বানিয়ে ইয়াবা পাচার


সংযুক্ত ছবি

৪ হাজার টাকায় শিশুর পেটকে ‘কুরিয়ার’ বানিয়ে ইয়াবা পাচার | ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই শিশুকে ব্যবহার করা হচ্ছিল ইয়াবা পাচারের ‘কুরিয়ার’ হিসেবে। ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর পেটের ভেতর পোটলাবন্দি করে পাঠানো হচ্ছিল মাদকের চালান। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় র‌্যাবের তল্লাশিতে ধরা পড়ে ভয়ংকর এই মাদক পাচারের কৌশল। শনিবার রাতে সরকারহাট এলাকার তৈলারদ্বীপ সেতু সংলগ্ন এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে এক নারীসহ দুই শিশুকে আটক করে র‌্যাব-৭। আটক নারী শারমিন আকতার ওরফে ইসমত আরাকে জিজ্ঞাসাবাদে শিশুদের পেটের ভেতর ইয়াবা বহনের তথ্য পাওয়া যায়। পরে ৬ সেপ্টেম্বর রাতে দুই শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক্স-রে পরীক্ষায় তাদের পেটের ভেতরে ইয়াবাসদৃশ অসংখ্য বস্তু শনাক্ত হয়। এরপর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রেখে পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে একে একে বের করে আনা হয় ইয়াবার পোটলাগুলো। র‌্যাব জানায়, ৯ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে উদ্ধার হয় ৬৭টি পোটলা। আর ১২ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে পাওয়া যায় আরও ৬৬টি পোটলা। সব মিলিয়ে ১৩৩টি পোটলায় ছিল ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। র‌্যাবের দাবি, উখিয়া থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসছিলেন আটক নারী। শিশু দুটিকে কৌশলে ইয়াবার পোটলা গিলিয়ে তাদের সঙ্গে করে নিয়ে আসা হতো। এর আগেও একই দুই শিশুকে ব্যবহার করে দুইবার ইয়াবার চালান উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াবা বহনের বিনিময়ে দুই শিশুকে জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। চট্টগ্রামে পৌঁছে চালান বুঝিয়ে দেওয়ার পর আরও অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। চিকিৎসকরা বলছেন, এভাবে পেটের ভেতর মাদক বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো পোটলা ফুটো হয়ে গেলে মাদক শরীরে ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক বিষক্রিয়া হতে পারে। এমনকি এতে মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে। শিশু দুটিকে কারা এই কাজে যুক্ত করেছে এবং উখিয়া থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক কারা—তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। আটক নারী, দুই শিশু ও জব্দ ইয়াবার ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব-৭।