রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা জুরাইন রেলগেট। প্রতিদিন এই রুটে অসংখ্য ট্রেন চলাচল করলেও আজ ১২ই অক্টোবর ২০২৬, সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, রেললাইনের একদম ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ কাঁচাবাজার ও অন্যান্য দোকানপাট। অবাধে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে লাইনের ওপর। এসব বর্জ্য ও প্লাস্টিক গড়িয়ে ট্রেনের চাকার নিচে ও লাইনের ভিতরে ঢুকে মারাত্মক মেকানিকাল ঝুঁকিসহ যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
রেললাইনের স্লিপার ও পাথরের ওপর ফলের ডালা ও কাঠের টেবিল বসিয়ে বিক্রেতারা যেমন জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন, তেমনি ক্রেতারাও অসচেতনভাবে কেনাকাটা করছেন। সামান্য অসাবধানতা বা ট্রেনের হুইসেল শুনতে না পেলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি। এছাড়া লাইনে প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে চালকদের ট্রেনের গতি চরমমাত্রায় কমিয়ে আনতে হয়, যা যাত্রীসাধারণের যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
রেলওয়ের কাঠামোগত ও পরিচালনগত ক্ষতি
লাইনের ক্ষতি ও দুর্ঘটনা ঝুঁকি: ট্র্যাকের ওপর ভারী সরঞ্জাম রাখা এবং প্লাস্টিকের বর্জ্য চাকার নিচে ও লাইনের খাঁজে আটকে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
সময়সূচি বিপর্যয়: ভিড়ের কারণে ট্রেনের গতি কমাতে হওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
রক্ষণাবেক্ষণে বাধা: লাইন ও স্লিপারের নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় মেরামত কাজে বিঘ্ন ঘটে।
জরুরি আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি
সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা এবং জাতীয় সম্পদ বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করতে জুরাইন রেলগেটে অবিলম্বে সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে রেল এলাকায় অবৈধ বাজার বসানো এবং বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।