পানিতে পড়ে কিশোর সালমান নিখোঁজ | ছবি: বাংলাদেশ যুগান্তর
কেরানীগঞ্জের ভেন্ডিঘাটে ঘুরতে এসে পানিতে পড়ে সালমান নামের এক কিশোরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দর্শনে এটি স্রেফ একটি দুর্ঘটনা মনে হলেও, অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে পারিবারিক কোন্দল ও পরকীয়া সম্পর্কের জটিল সমীকরণ। এ ঘটনায় নিখোঁজ কিশোরের মা এবং তার পরকীয়া প্রেমিকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয়দের জোরালো সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় সালমানকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ভেন্ডিঘাটে ঘুরতে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে সে নদীর পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। তবে ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও গতকাল মধ্যরাতে নিখোঁজের বিষয়টি প্রথম জানাজানি হয়। গভীর রাতে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল। ঘটনার পরপরই পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ সন্দেহভাজন প্রেমিককে আটক করে হেফাজতে নেয়। কিন্তু রহস্যজনক বিষয় হলো, পুলিশ হেফাজত থেকে বেরিয়ে আসার পরপরই উক্ত প্রেমিক হঠাৎ এলাকা ছেড়ে সম্পূর্ণ লাপাত্তা হয়ে যায়। সন্ধ্যার ভ্রমণ, মধ্যরাতে ঘটনা জানাজানি হওয়া, মায়ের বিতর্কিত ভূমিকা এবং প্রেমিকের এমন রহস্যময় আত্মগোপন পুরো ঘটনাকে এক নতুন ষোড়যন্ত্রের দিকে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। নদীর তীর জুড়ে এখন নিখোঁজ সালমানের স্বজনদের আহাজারি আর কান্নার রোল। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি পরকীয়াঘটিত কোনো বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মগোপনে থাকা প্রেমিককে গ্রেপ্তার করতেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।