প্রকাশ: ... | ... | ...

সিলেটের গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ঘটনার তদন্ত দাবি


সংযুক্ত ছবি

সিলেটের গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ঘটনার তদন্ত দাবি | ছবি: বাংলাদেশ যুগান্তর

সিলেটের গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং একটি হাসপাতালের প্রধান ফটককে কেন্দ্র করে দুই সংবাদকর্মীর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরস্পরের বিরুদ্ধে গালিগালাজ, হুমকি, পেশাগত কাজে বাধা ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ এনে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরির আবেদন করা হয়েছে। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরির আবেদনের নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ রাতে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। একটি সাধারণ ডায়েরির আবেদনে সৈয়দ জেলওলোয়ার হোসেন স্বপন দাবি করেন, তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তথ্য সংগ্রহ শেষে সহকর্মী মাহদি রহমানকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিক মো. খালেদ আহমেদ তাদের পথরোধ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এ সময় তাকে অশোভন ভাষায় গালিগালাজ, ভিডিও ধারণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি পুলিশকে খবর দেন এবং নিরাপত্তার জন্য গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় যান বলে আবেদনে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, মো. খালেদ আহমেদ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকটি উন্নয়নমূলক কাজের কারণে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। ওই সময় সৈয়দ জেলওলোয়ার হোসেন স্বপন ও তার সহযোগী মাহদি রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে ফটকের তালা খোলার চেষ্টা করেন। দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য তাদের বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। খালেদ আহমেদের অভিযোগ, পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য তিনি এগিয়ে গেলে সৈয়দ জেলওলোয়ার হোসেন স্বপন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং নিজেকে একটি প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে বহিরাগত লোকজন ডেকে এনে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। খালেদ আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার মতো পোস্ট করা হয়েছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সৈয়দ জেলওলোয়ার হোসেন স্বপনের সাধারণ ডায়েরির আবেদনে নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সিলেট বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘সকালের দিগন্ত’-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি জাতীয় দৈনিকের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব’ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের অভিযোগ, প্রেসক্লাবের বৈধ কার্যনির্বাহী কমিটি না থাকলেও কেউ কেউ সংগঠনটির বিভিন্ন পদ ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বৈধতা, বর্তমান কমিটি ও দায়িত্বশীল পদধারীদের বিষয়ে প্রশাসনিক বা সংগঠনিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগপত্রে আরও কিছু গুরুতর দাবি ও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে, যার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচার, সাংবাদিক সংগঠনকে ঘিরে বিরোধ এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে থাকা আনসার সদস্য, হাসপাতালের কর্মচারী, উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশের ঘটনাস্থলে যাওয়ার তথ্য যাচাই করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি সরকারি প্রতিষ্ঠান, সাধারণ মানুষ কিংবা অন্য কোনো সংবাদকর্মীর ওপর প্রভাব বিস্তার, হুমকি বা পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, সেটি অবশ্যই তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। একইভাবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ থাকলেও তার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি। দুই পক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, কোনো পক্ষের বক্তব্যকে একতরফাভাবে সত্য ধরে না নিয়ে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেই এখন পরিষ্কার হতে পারে, ১৬ আগস্ট রাতে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে কী ঘটেছিল এবং কার অভিযোগের কতটুকু সত্যতা রয়েছে।