প্রকাশ: ... | ... | ...

এমপি নজরুলের আবেদন খারিজ আদালতে


সংযুক্ত ছবি

এমপি নজরুলের আবেদন খারিজ আদালতে | ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার গাড়িচালক ওবায়দুরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলাটি আপসযোগ্য নয় উল্লেখ করে শুধু আপসনামার ভিত্তিতে জামিন দিলে সমাজে ন্যায়বিচার নিয়ে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নজরুল ইসলামের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষেরও জামিনে কোনো আপত্তি নেই। এ সময় আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং উপস্থাপিত আপসনামা পর্যালোচনা করেন। পরে আদালত বলেন, এ ধরনের অনাপসযোগ্য মামলায় একটি আপসনামার ওপর ভিত্তি করে জামিন দিলে সমাজে ন্যায়বিচার নিয়ে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। এরপর গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন আদালত। ফলে আপাতত তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়েছিল। ওই দিন আদালত মাকছুদা ইসলামকে জামিন দিলেও নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরদিন আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর নজরুল ইসলামের আরও এক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এদিকে মামলায় আপসের দাবি তুলে জামিন চাওয়া হলেও আদালতের আদেশে তা কার্যকর হয়নি। ফলে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।