প্রকাশ: ... | ... | ...

সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারকে মারধরের অভিযোগে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি


সংযুক্ত ছবি

সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারকে মারধরের অভিযোগে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি | ছবি: বাংলাদেশ যুগান্তর

গাজীপুরে নিজ বাসার সামনে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অর্থ ও দপ্তর সম্পাদিকা মোছাম্মদ ফাতেমা আক্তারকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ফাতেমা আক্তার বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। একজন সাংবাদিক নেত্রীকে নিজ বাসার সামনে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগকে গুরুতর ঘটনা উল্লেখ করে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম বলেছে, সাংবাদিকদের ভয় দেখানো, শারীরিকভাবে আঘাত করা কিংবা হামলার মাধ্যমে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। সংগঠনটির নেতারা বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনায় সংগঠনের সভাপতি কে এম আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাসেল, সহসভাপতি এম টি রহমান মাহমুদ, মহিলা সম্পাদিকা তাহমিনা মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে এম আবুল হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকরা মানুষের কথা বলেন, অনিয়ম ও অসঙ্গতি তুলে ধরেন এবং জনগণের সামনে তথ্য প্রকাশ করেন। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবি কে এম আবুল হোসেন দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের হামলা, হুমকি ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা শুধু সাংবাদিক সমাজের বিষয় নয়। এটি স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশ, জনগণের জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের চাপ, হুমকি ও হামলার মুখে পড়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে আসে। কোনো সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক আক্রান্ত হলে তার প্রভাব শুধু ওই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মনে করেন সংগঠনটির নেতারা। ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার অভিযোগের ক্ষেত্রেও দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ কী, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে কোনো পেশাগত বা ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আহত সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে সংগঠনটি এবং তাঁর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনের নেতারা বলেন, সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দেওয়ার জন্য হামলা কোনো সমাধান নয়। সত্য প্রকাশ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিরাপদ রাখা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। নারী সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি ও চাপের মুখোমুখি হন। দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধের তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক আক্রান্ত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।