মাত্র ২০ টাকার লটারির টিকিট। আর সেই টিকিটেই ৩০ লাখ টাকা জয়ের দাবি করেছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কৃষক হানিফ মিয়া। তবে তিনি এখনই চূড়ান্ত বিজয়ী নন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে তার ভাগ্য।
হানিফ মিয়া ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের আবদুর কুদ্দুসের ছেলে। স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে কাজ করার পাশাপাশি হাঁসের খামার ও কৃষিকাজ করে সংসার চালান তিনি। বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির জাতীয় লটারি-২০২৬-এর ড্র অনুষ্ঠিত হয় গত ১৯ জুলাই। এতে ৩০ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কারের বিজয়ী নম্বর ঘোষণা করা হয়—‘গ-০১৬৪৩৬৪’। হানিফের দাবি, এই নম্বরের মূল টিকিটটি রয়েছে তার কাছেই।
শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়িতে তিনি জানান, মহেশপুর বাজার থেকে ২০ টাকা করে দুটি টিকিট কিনেছিলেন। পরে অনলাইনে ফলাফল দেখার সময় একটি টিকিটের নম্বর প্রথম পুরস্কারের সঙ্গে মিলে যায়। এরপর মূল টিকিট নিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গেলে সেটি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়।
হানিফ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তার। সত্যিই যদি ৩০ লাখ টাকা পান, তাহলে একটি ফার্মেসি করবেন, হাঁসের খামার বড় করবেন এবং পরিবারের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করবেন। তবে এই লটারির গল্পে সবচেয়ে বড় চমক—মাত্র ৪০ টাকা খরচ করে দুটি টিকিট কিনতে স্বামীকে বকেছিলেন হানিফের স্ত্রী নীলা আক্তার। তার ভাষ্য, ওই টাকা দিয়ে সংসারের বাজার করলেই ভালো হতো। কিন্তু পরে অনলাইনে নম্বর মেলাতে গিয়ে দেখেন, তাদের একটি টিকিটই প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সঙ্গে মিলে গেছে।
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির জাতীয় লটারি প্রকল্পের পরিচালক মো. আলম কবির জানিয়েছেন, প্রথম পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে এখন পর্যন্ত হানিফ মিয়াই মূল টিকিট নিয়ে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে টিকিটটি সঠিক মনে হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের পর।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০ আগস্টের পর শুরু হবে টিকিট যাচাইয়ের কার্যক্রম। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের শুরুতে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে। এখন তাই ২০ টাকার সেই টিকিট ঘিরেই হানিফের ৩০ লাখ টাকার স্বপ্ন। যাচাই-বাছাই শেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।