দেশের বাজারে সুগন্ধি বা পোলাও চালের দাম বাড়তে থাকলেও রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে দফায় দফায়। গত দুই মাসে কেজিপ্রতি ৫০ টাকার বেশি বেড়েছে এই চালের দাম। এর মধ্যেই নতুন করে আরও ৮ হাজার ৮০০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন পরিমাণে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে গত মে মাসে ২১১টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ হাজার ৫২০ টন চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে বাজারে চিনিগুঁড়া চালের দাম বেড়েই চলেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক মাস আগেও ৫০ কেজির বস্তা ৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে খোলা চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে। এক মাস আগে এই চালের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, আর দুই মাস আগে ছিল ১৩৫ থেকে ১৫০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ সংকট ও উৎপাদনের মৌসুম না আসার কারণে দাম বাড়ছে। তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রপ্তানির অনুমোদনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি কেজি চালের সর্বনিম্ন রপ্তানি মূল্য ১ দশমিক ৬ মার্কিন ডলার নির্ধারণ, অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি না করা এবং প্রয়োজন হলে সরকার যেকোনো সময় অনুমতি বাতিল করতে পারবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১০ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়। তবে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি নীতির মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।