মোঃ মারুফ চৌধুরী :
সাম্প্রতিক সময়ে বিএসইসি (BSEC) চেয়ারম্যানের কিছু অযৌক্তিক মন্তব্য এবং হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে বড় বিনিয়োগকারী ও কারসাজিকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাজারে বিক্রির চাপ (Cell Pressure) বাড়াচ্ছেন, যা বাজারের এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। নিচে এর সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
১. অ্যানালাইসিসের ওপর নিষেধাজ্ঞা: চেয়ারম্যান জানিয়েছেন যে বিএসইসির লাইসেন্সধারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ কোনো সিকিউরিটিজ বা শেয়ার নিয়ে আলোচনা বা অ্যানালাইসিস করতে পারবেন না। এটি করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং এ বিষয়ে নতুন আইন তৈরি করা হচ্ছে।
২. AI প্রযুক্তির ব্যবহার ও আতঙ্ক: খুব শীঘ্রই এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারসাজিকারকদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা বাজারে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে।
৩. হঠাৎ ট্রেড সাসপেন্ড: সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া হঠাৎ হঠাৎ বিভিন্ন শেয়ারের ট্রেড স্থগিত (Suspend) করার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
৪. T+0 ট্রেডিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ: বাজারে 'T+0' ট্রেড চালু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা অধিকাংশ বিনিয়োগকারী পছন্দ করছেন না। কারণ এতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো লাভবান হলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।
৫. আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন বন্ধ: তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বহু সাধারণ বিনিয়োগকারী চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
৬. ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকা ও অযাচিত হস্তক্ষেপ: বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকা তৈরি করে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতে, বাজারকে নিজস্ব গতিতে চলতে না দিয়ে এটি বাজারের ওপর এক ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ।
৭. ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারি: শেয়ার কারসাজি বা গ্যাম্বলিংয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে—চেয়ারম্যানের এমন সাক্ষাৎকার প্রকাশের পরই বাজারে বড় ধরনের ধস নামে।
উপসংহার: বাজারে কীভাবে নতুন বিনিয়োগকারী আনা যায় কিংবা তারল্য প্রবাহ (Liquidity) বাড়ানো যায়, সেদিকে নজর না দিয়ে কঠোর নীতিমালার মাধ্যমে বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করার এই অতি-উৎসাহি প্রয়াস বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে। মূলত এসব কারণেই বাজার আজ ডাউনট্রেন্ডে রূপ নিয়েছে।