শিরোনাম
যু <h1>ঢাকার SEOK Healthcare চীনের গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টারের সঙ্গে রোগীদের সুচিকিৎসায় সার্বিক সহযোগিতায় যৌথভাবে কাজ করছে</h1> যু <h1>&lrm;ঘাতক জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবিতে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের মানববন্ধন</h1> যু <h1>ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ৩২০ কোটি টাকার ট্যাব কিনছে সরকার</h1> যু <h1>ঢাকার SEOK Healthcare চীনের গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টারের সঙ্গে রোগীদের সুচিকিৎসায় সার্বিক সহযোগিতায় যৌথভাবে কাজ করছে</h1> যু <h1>&lrm;ঘাতক জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবিতে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের মানববন্ধন</h1> যু <h1>ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ৩২০ কোটি টাকার ট্যাব কিনছে সরকার</h1>

ঢাকার SEOK Healthcare চীনের গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টারের সঙ্গে রোগীদের সুচিকিৎসায় সার্বিক সহযোগিতায় যৌথভাবে কাজ করছে

বাংলাদেশর ক্যান্সার রোগীদের সুচিকিৎসায় চীনের GCCC এর সাথে কাজ করছেন SEOK Healthcare 

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ঢাকায় আগত চীনের GCCC প্রতিনিধিদের নিয়ে বক্তব্য রাখছেন SEOK Healthcare এর চেয়ারম্যান এমএম মাসুমুজ্জামান ছবি: বাংলাদেশ যুগান্তর
ঢাকায় আগত চীনের GCCC প্রতিনিধিদের নিয়ে বক্তব্য রাখছেন SEOK Healthcare এর চেয়ারম্যান এমএম মাসুমুজ্জামান ছবি: বাংলাদেশ যুগান্তর

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে অনেক পরিবারই শুধু রোগের সঙ্গে নয়, সঠিক চিকিৎসা খুঁজে পাওয়ার অনিশ্চয়তার সঙ্গেও লড়াই করেন। রোগ নির্ণয় ঠিক আছে কিনা, কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কী চিকিৎসা হবে, খরচ কত, বিদেশে কোথায় যাওয়া যায় — এসব প্রশ্ন তখনই আসে যখন মানসিক চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিদেশে সমন্বিত চিকিৎসা পথ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিওক হেলথকেয়ার।

রোববার রাজধানীর হোটেল ইউনিক রিজেন্সিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও হাসপাতাল পরিচিতি অনুষ্ঠানে সিওক হেলথকেয়ার জানায়, তারা চীনের গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টারের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের ক্যানসার রোগীদের জন্য একটি সুসংগঠিত রেফারেল ও সহায়তা পথ তৈরি করছে। অনুষ্ঠানে সিওক হেলথকেয়ারের পক্ষ থেকে এম এম মাসুমুজ্জামান ও ফারহানা হাসনা তুলি এবং গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টারের পক্ষ থেকে ইওয়ান ইউ ও স্টেফানি ঝো উপস্থিত ছিলেন।

সিওক হেলথকেয়ারের কর্মকর্তারা বলেন, তাদের কাজ শুধু বিদেশি হাসপাতালে রোগী পাঠানো নয়। প্রথমে রোগীর সব মেডিকেল রিপোর্ট, প্যাথলজি, ডায়াগনস্টিক ছবি ও আগের চিকিৎসার তথ্য সংগ্রহ করে ভার্চুয়াল পরামর্শের ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজনে দ্বিতীয় মতামতের ব্যবস্থাও করা হয় যাতে রোগী বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে পারেন। এরপর রেফারেল, ভিসা, যাতায়াত, থাকা, ভাষাগত সহায়তা, চিকিৎসা সমন্বয় এবং দেশে ফেরার পর ফলোআপ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া হয়।

 

চিকিৎসকরা অনুষ্ঠানে বলেন, প্রযুক্তি থাকলেই তা সব রোগীর জন্য উপযুক্ত নয়। ক্যানসারের ধরন, টিউমারের অবস্থান, রোগের ধাপ, আগের চিকিৎসা এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ কারণে বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নকে তারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টার সম্পর্কে জানানো হয়, সেখানে সার্জারি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং আধুনিক রেডিওথেরাপির পাশাপাশি মাল্টিডিসিপ্লিনারি ক্যানসার সেবা রয়েছে। কেন্দ্রটিতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ চীনের প্রথম প্রোটন থেরাপি কেন্দ্র চালু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে ৮০ জনের বেশি রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলেন, প্রোটন থেরাপিসহ যে কোনো উন্নত চিকিৎসা রোগীর অবস্থা পর্যালোচনা করেই নির্ধারণ করতে হবে।

সিওক হেলথকেয়ার ও গুয়াংজু কেন্দ্রের মধ্যে যোগাযোগ গত কয়েক মাসে জোরদার হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে সিওক হেলথকেয়ারের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বাংলাদেশি দল গুয়াংজু কেন্দ্র পরিদর্শন করে। সেখানে প্রিসিশন অনকোলজি, আন্তর্জাতিক রোগী ব্যবস্থাপনা, রেফারেল পদ্ধতি ও বিমা সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়। মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১৭তম আন্তর্জাতিক মেডিকেল যন্ত্রপাতি প্রদর্শনীতে গুয়াংজু কেন্দ্র তাদের প্রোটন থেরাপি ও প্রিসিশন অনকোলজি সেবা উপস্থাপন করে।

 

সিওক হেলথকেয়ার জানায়, গত তিন বছরে তারা ৪ হাজারের বেশি রোগীকে সেবা দিয়েছে। বিশ্বের ৭৫টির বেশি হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সংযুক্তি রয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের ১ হাজারের বেশি চিকিৎসক তাদের নেটওয়ার্কে কাজ করছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিদেশে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসার সুফল, সম্ভাব্য ঝুঁকি, সময়, মোট খরচ এবং দেশে ফেরার পর ফলোআপ সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। সিওক হেলথকেয়ার ও গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টারের এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য সহযোগিতার একটি নতুন দিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে যন্ত্রপাতি বা হাসপাতালের সংখ্যার ওপর নয়, বরং রোগী সঠিক পরামর্শ, স্বচ্ছ চিকিৎসা পথ, যুক্তিসংগত খরচ এবং ধারাবাহিক সেবা পাচ্ছেন কিনা তার ওপর।

ক্যানসারের মতো কঠিন সময়ে একটি সুসংগঠিত রেফারেল শুধু একটি হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নয়, এটি হতে পারে মেডিকেল রিপোর্ট থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত, চিকিৎসা সমন্বয় ও ফলোআপ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ পথ — যা রোগীদের আরও তথ্য দিকনির্দেশনা ও সহায়তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL