সংবাদ শিরোনামঃ

স্মার্টফোনের যুগে চিঠির প্রেমে জেন জি, ফিরছে ‘স্নেইল মেইল’

বাংলাদেশ যুগান্তর
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
স্মার্টফোনের যুগে চিঠির প্রেমে জেন জি, ফিরছে ‘স্নেইল মেইল’ ছবি: সংগৃহীত
স্মার্টফোনের যুগে চিঠির প্রেমে জেন জি, ফিরছে ‘স্নেইল মেইল’ ছবি: সংগৃহীত

স্মার্টফোনের পর্দায় এখন মানুষের প্রতিদিনের যোগাযোগ। কথা বলার জন্য ফোন, কয়েক সেকেন্ডে বার্তা পাঠাতে হোয়াটসঅ্যাপ, আর গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা বার্তার জন্য জিমেইল—সবই এখন হাতের মুঠোয়।ডাকপিয়নের অপেক্ষা কিংবা খাম খুলে হাতে লেখা চিঠি পড়ার সেই সময় যেন হারিয়েই গিয়েছিল। তবে প্রযুক্তির এই দ্রুতগতির সময়েই যেন উল্টো পথে হাঁটছে নতুন প্রজন্ম। বিশেষ করে জেন জি’র অনেক তরুণ-তরুণী আবারও আগ্রহী হয়ে উঠছেন হাতে লেখা চিঠির প্রতি। শুধু আগ্রহ নয়, চিঠি পাওয়ার জন্য অর্থও খরচ করছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘স্নেইল মেইল’ ক্লাব।

‘স্নেইল মেইল’ বলতে সাধারণ ডাকযোগে কাগজের চিঠি পাঠানোকে বোঝানো হয়। একসময় ধীরগতির ডাকসেবাকে মজা করে বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হলেও এখন এটি পরিণত হয়েছে নতুন এক জীবনধারার প্রবণতায়। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠছে এমন ক্লাব। নির্দিষ্ট মাসিক ফি দিয়ে সদস্যরা পাচ্ছেন হাতে লেখা ও নান্দনিকভাবে সাজানো চিঠি। একটি খাম খুললেই শুধু চিঠি নয়—সঙ্গে থাকতে পারে রঙিন স্টিকার, পোস্টকার্ড, বুকমার্ক, ওয়াশি টেপ, এমনকি শুকনো ফুল বা ছোটখাটো স্মারকও। ফলে চিঠি পাওয়া অনেকের কাছে এখন এক ধরনের ‘আনবক্সিং’ অভিজ্ঞতা।

এই চর্চায় খামের সৌন্দর্যও গুরুত্বপূর্ণ। কাগজের ধরন, হাতের লেখা, ক্যালিগ্রাফি কিংবা খাম সাজানোর নকশা—সবকিছু মিলেই তৈরি হচ্ছে ব্যক্তিগত এক শিল্প। বিভিন্ন স্নেইল মেইল ক্লাবে সাধারণত মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ রুপি দিয়ে সদস্য হওয়া যায়। প্রতি মাসে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে সদস্যদের কাছে পাঠানো হয় চিঠি। তবে প্রশ্ন হলো—দ্রুতগতির ডিজিটাল যুগে চিঠির প্রতি এই আকর্ষণ কেন?

বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে ডিজিটাল ক্লান্তি। সারাক্ষণ স্ক্রিন, নোটিফিকেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অসংখ্য ডিজিটাল বার্তার ভিড়ে তরুণদের একটি অংশ এখন বাস্তব ও স্পর্শযোগ্য অভিজ্ঞতা খুঁজছেন। একটি হাতে লেখা চিঠিতে থাকে প্রেরকের হাতের লেখা, কাগজের স্পর্শ, খামের নকশা এবং কখনো নিজের হাতে বেছে দেওয়া ছোট্ট কোনো উপহার। এসব মিলে তৈরি হয় ব্যক্তিগত এক অনুভূতি। তাই চিঠির এই ফিরে আসাকে শুধু পুরোনো দিনের নস্টালজিয়া হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। বরং দ্রুতগতির ডিজিটাল জীবনের বাইরে একটু ধীর, ব্যক্তিগত ও সৃজনশীল সময়ের খোঁজ হিসেবেই দেখছেন তারা।

প্রযুক্তি যোগাযোগকে করেছে দ্রুত ও সহজ। আর সেই দ্রুততার মাঝেই নতুন প্রজন্মের একাংশ যেন খুঁজে নিচ্ছে অপেক্ষার আনন্দ। তাই কাগজের চিঠি হারিয়ে যাওয়ার গল্প হয়তো এখন বদলে যাচ্ছে। ডিজিটাল যুগেই নতুন পরিচয়ে আবারও ফিরছে সেই পুরোনো চিঠি—নতুন প্রজন্মের ‘স্নেইল মেইল’ হয়ে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত