২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বিদায়ী টেস্ট খেলতে গত বছরের অক্টোবরে দেশে ফেরার চেষ্টা করেও নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ পর্যন্ত দুবাই থেকেই ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে।
তবে দেশের মাটিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলার স্বপ্ন এখনও দেখছেন ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। শুধু তাই নয়, সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হলে দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোরও আইনি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকার যদি তাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে দেশে ফিরে আদালতের বিচারসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সাকিব ছিলেন সংসদ সদস্য। সরকার পতনের পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। জাতীয় দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর না নেওয়া সাকিব এখনও দেশের জার্সিতে মাঠে ফেরার স্বপ্ন দেখেন। বিদায়ী সিরিজের পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর সেখানেই অবস্থান করছেন। সম্প্রতি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন সাকিব। তার ভাষ্য, নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তারা সেটিই অনুসরণ করবেন।
সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নিয়েও কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান সাকিব। তার দাবি, সেখানে তিনি শুধু শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে দেশের মাটিতে শেষ ম্যাচ খেলার আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি—সবকিছু মিলিয়ে আবারও আলোচনায় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।