দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকা রোহিঙ্গা সংকট পুরো অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ সময় আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে মানবপাচার, মাদকপাচার, অবৈধ অভিবাসী পাচারসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সংকটের মূল কারণ সমাধানে এখনই কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নিপীড়নের কারণে রোহিঙ্গারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ২০১৭ সালের সহিংসতার পর বাংলাদেশ মানবিক কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়। বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। জাতিসংঘের ২০২৫-২৬ যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন ধরা হয়েছে, যা রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর ১৬ লাখ মানুষের সহায়তায় ব্যবহারের কথা।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশার কারণে শিবিরগুলোতে নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। একই সঙ্গে মানবপাচার, মাদকপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকিও বাড়ছে। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনাতেও মিয়ানমারের পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রোডম্যাপ তৈরি, সহিংসতা বন্ধ ও রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং মানবপাচার, মাদকপাচার ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন রাজ্যে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। নিরাপদ পরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত হলে তারা যেন স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজভূমিতে ফিরে যেতে পারে, সে লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।