সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি করা হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়ায় এসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খসড়াটি তৈরি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। মাউশি এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করবে।
খসড়া অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। দুই ঘণ্টার এই পরীক্ষায় বাংলায় থাকবে ৩০ নম্বর। ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মাউশির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুরুতে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৫০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এই শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম চালানোর কথা জানানো হয়। তবে অন্য শ্রেণিগুলোতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হলে ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা ও বৈঠক করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথমে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে পরীক্ষার পরিবর্তে ২০১১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবার লটারি পদ্ধতি চালু হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও এ পদ্ধতি চালু করা হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। করোনা মহামারির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। এখন নতুন খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত হলে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারি এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।