শিরোনাম

সাত দিনের অবরোধে সাজেকে নিত্যপণ্যের সংকট

বাংলাদেশ যুগান্তর ডেস্ক বাংলাদেশ যুগান্তর ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
সাত দিনের অবরোধে সাজেকে নিত্যপণ্যের সংকট ছবি: সংগৃহীত
সাত দিনের অবরোধে সাজেকে নিত্যপণ্যের সংকট ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে টানা সাত দিন ধরে চলছে সড়ক অবরোধ। পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনকারীদের এই কর্মসূচির কারণে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে কৃষিপণ্য নিতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন জুমচাষিরা। অন্যদিকে আয় বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন পরিবহণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বুধবার সকালেও সাজেকের গঙ্গারাম, মাচালং, ১৪ কিলো ও হাজাছড়াসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করেন আন্দোলনকারীরা। সশস্ত্র সদস্যদের সরানো, সন্ত্রাস বন্ধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ পাঁচ দফা দাবিতে এই কর্মসূচি চলছে।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। গত ২৬ অক্টোবর সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। এরপর আর যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। এদিকে বুধবার দুপুরে গঙ্গারাম এলাকায় পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অবরোধের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অনিত্য ত্রিপুরা জানান, বাসিন্দারা ঘরে মজুত খাবার দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। রুইলুই পাড়ার পাঁচটি দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও শেষের পথে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।

শিয়ালদাই মৌজার হেডম্যান ও ইউপি সদস্য জৌপেইথাং ত্রিপুরা জানান, যান চলাচল বন্ধ থাকায় কলা, পেঁপে, আখ, মিষ্টিকুমড়া ও কচুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না। এতে পণ্য নষ্ট হচ্ছে। ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পণ্যেরও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পরিবহণ খাতেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি। খাগড়াছড়ি যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমার দাবি, সাজেকে চলাচলকারী দেড় হাজারের বেশি যানবাহনের চালক ও সহকারীরা আয় হারিয়েছেন। পরিবহণ খাতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে পর্যটকদের এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে এবং বর্তমানে পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানিয়েছেন, পরবর্তী আলোচনার জন্য এখনো কোনো দিন-তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। অন্যদিকে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, অবরোধ চললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবরোধের কারণে একদিকে যেমন স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও ওষুধের সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষক ও পরিবহণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরবর্তী আলোচনা কবে হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।

বিষয়:

রাঙামাটি
এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL