জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য গ্রহণের সময় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুল ইসলাম চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, মামলার একজন সাক্ষী মো. হানিফ জবানবন্দি দেওয়ার একপর্যায়ে বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতারা কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এ সময় প্রসিকিউটর এবিএম সুলতান মাহমুদ সাক্ষীর কাছে জানতে চান—এই নেতারা কারা। প্রসিকিউটরের এই প্রশ্নকে অবৈধ দাবি করে কাঠগড়ায় থাকা কামরুল ইসলাম চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং আপত্তি জানান বলে জানিয়েছেন মিজানুল ইসলাম। প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কামরুল ইসলাম বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। তবে আদালত শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন এবং প্রসিকিউশনকে ওই প্রশ্ন করার অনুমতি দেন।
মিজানুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশনের উদ্দেশ্য হলো আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করা। সে কারণে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা প্রসিকিউটরের দায়িত্বের অংশ। তার দাবি, সুলতান মাহমুদের করা প্রশ্নটি আইনসঙ্গত ছিল এবং ট্রাইব্যুনালও প্রসিকিউশনের বক্তব্য সমর্থন করে প্রশ্নটি করার অনুমতি দিয়েছেন। এ সময় কামরুল ইসলাম নিজেকে ৪০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী হিসেবে দাবি করেছেন বলেও জানান প্রসিকিউটর। তবে তার মতে, প্রসিকিউটরের প্রশ্নে কোনো অবৈধতা ছিল না।
পরে কামরুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন বলেও শুনেছেন বলে জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। মামলাটিতে সাবেক দুই মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় ২৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য আদালতে বিচারাধীন বিষয়। অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য এবং মামলার চূড়ান্ত রায়ই শেষ পর্যন্ত বিষয়গুলোর আইনগত অবস্থান নির্ধারণ করবে।