রাজধানীর বাজারে প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। সবজি, মাছ, মাংস ও ডিমের পাশাপাশি আটা, ময়দা, চিনি, ডাল ও চালের বাড়তি দামে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানীর মিরপুর-১১ ও মুসলিম কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক চড়া দামে।
পটোল, ঢ্যাঁড়স, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্ধল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। বেগুন ৯০ থেকে ১০০, বরবটি ১২০ এবং করলা ও কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ভারত থেকে আমদানির সুযোগ দেওয়ায় কাঁচা মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে পণ্যটির দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ডালের বাজারেও স্বস্তি নেই। চিকন মসুর ডাল ১৬০, মোটা মসুর ৯০ থেকে ১০০ এবং মাষকলাই বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে। খোলা চিনি ১২০, প্যাকেট চিনি ১৩০ এবং খোলা আটা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ময়দার দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মাংসের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০, সোনালি ৩২০ থেকে ৩৪০ এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে।
ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫, সাদা ডিম ১৪০ এবং হাঁসের ডিম ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। মাছের বাজারেও রয়েছে বাড়তি দামের চাপ। দেশি পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০, টেংরা ও পুঁটি ৬০০ থেকে ৬৫০ এবং শিং-মাগুর ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে ইলিশের দাম উঠেছে ১২০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত। রুই ও কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০ এবং পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে চালের বাজারে নাজিরশাইল ৮৫ থেকে ৯০, পাইজাম ৫৮ থেকে ৬৫ এবং স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এবং পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি গ্যাসসংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে বলেও দাবি তাদের। নিত্যপণ্যের এই বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। বাজারে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করে দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।