শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারি গ্রামের মোঃ হারুন চৌকিদারের মেয়ে নুসরাত জাহান পাপিয়া (২৬) পরকীয়ার জেরে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির কষ্টার্জিত অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং ঋণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে শরীয়তপুরের বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। যার মামলা নং- ৮০৫/২০২৬।
মামলার বাদী সহর ভানু অভিযোগ করেন, তার ছেলে মিজানের সাথে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার বিঝারী গ্রামের মোঃ হারুণ চৌকিদারের মেয়ে নুসরাত জাহান পাপিয়া (২৬) এর সাথে বিবাহ হয়। মিজান ও পাপিয়ার সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে জীবন জীবিকার তাগিদে মিজান প্রায় আট বছর ধরে দুবাই প্রবাসী। মাঝে-মধ্যে মিজান বাংলাদেশে আসেন। স্ত্রীর সংসারের খরচ ও ভবিষ্যতের জন্য তিনি নিয়মিত স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও নিজ বিকাশ একাউন্ট, অন্যান্য বিকাশ একাউন্ট ও বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ পাঠাতেন। প্রবাস থেকে পাঠানো টাকা হতে সংসার পরিচালনা ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা তার স্ত্রীর কাছে জমা ছিল। এছাড়া প্রবাস থেকে পাঠানো ও বাংলাদেশ থেকে তৈরি করা ১৮ ভরি ১২ আনা স্বর্ণালংকারও স্ত্রীর হেফাজতে ছিল।
মামলারঅভিযোগে বলা হয়েছে, গত দুই বছর ধরে প্রবাসী মিজানের স্ত্রীর আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, স্ত্রী পাপিয়ার সঙ্গে মিজানের কাছের বন্ধু সজীব নামের এক ব্যক্তির পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হয়। এরই মাঝে ২০২৬ সালের গত ১৪ এপ্রিল মাসে শরীয়তপুরের চিকন্দি ব্র্যাক এরিয়া অফিস থেকে বাদীকে না জানিয়ে তাকে জামিনদার হিসেবে ব্যবহার করে একটা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ৭ লাখ টাকার ঋণ নেওয়া হয়। ঐ ৭ লাখ টাকার চেক সহ প্রবাসীর পাঠানো প্রায় ৩০ লাখ টাকা, ১৮ ভরি ১২ আনা স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে অভিযুক্ত পাপিয়া ও তার মা নার্গিস বেগম (৫০) পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী আরও জানান, পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে পালং মডেল থানায় গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর এর আবেদন করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পালং থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত নুসরাত জাহান পাপিয়ার ০১৭৬৪৫৬৯৪৫৩ মোবাইলে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় বিধায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এহেন অবস্থার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের মা-বাবা সহ অন্যান্য সদস্যরা ন্যায় বিচার পাবার স্বার্থে আইন ও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান মামলার বাদী সহর ভানু। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মামলার বাদী মনে করছেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে আসামীর নিকট থেকে প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থ, স্বর্ণালংকার ফেরত প্রদাণের আদেশ জারি সহ আসামী কঠোর শাস্তি প্রদান নিশ্চত করবেন।