ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মারিবে হুথিদের চালানো একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। একই সময়ে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশেও হুথিদের হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার তুরস্কের সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার সকালে মারিবের আকাশে হুথিদের বেশ কয়েকটি ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে সরকারি বাহিনী। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল শহরের বিভিন্ন এলাকা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদমাধ্যম সেপ্টেম্বর নেট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মারিবে ব্যাপক বেসামরিক কর্মকাণ্ড চলার সময় হুথিরা একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। শহরটিতে বিপুলসংখ্যক অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করায় হামলার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরকারি মালিকানাধীন সাবা টিভিও জানিয়েছে, মারিবের আকাশে হুথিদের কয়েকটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করে হুথিদের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশেও হুথিদের হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, নাজরানে হামলায় সাতজন সৌদি, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিশরীয় ও একজন পাকিস্তানি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
হুথিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন আল-মালিকি। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোট প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। এদিকে সৌদি জোটের এসব অভিযোগের বিষয়ে হুথি বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনায় নতুন করে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।