পবিত্র কোরআনের ভাষায় প্রকৃত ক্ষতি বা ‘খুসরান’ বলতে পার্থিব ক্ষতিকে নয়, বরং ঈমান, দ্বিন ও আখিরাত হারিয়ে ফেলাকেই বোঝানো হয়েছে। কোরআনে বারবার সতর্ক করে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর অবাধ্যতা ও কুফরিতে নিমজ্জিত হয়, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহকে অস্বীকারকারী, তাঁর নিদর্শন প্রত্যাখ্যানকারী এবং সত্যের পরিবর্তে মিথ্যাকে গ্রহণকারীরাই সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যদি মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে সেটিও ক্ষতির অন্যতম কারণ।
কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা নিজেদের কাজকে সৎকর্ম মনে করে; কিন্তু বাস্তবে তাদের সব প্রচেষ্টা দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং আখিরাতে তারা কোনো প্রতিদান পায় না। এ ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনাকেও বড় ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া যারা শুধুমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে ঈমান গ্রহণ করে, কিন্তু পরীক্ষার মুখে দ্বিন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে—তারা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারিয়েছে, যা সুস্পষ্ট ক্ষতি।
কোরআনে আরও যেসব কাজকে মানুষের ক্ষতির কারণ বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—অন্যায়ভাবে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, দারিদ্র্য বা লজ্জার ভয়ে সন্তান হত্যা, আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি, আল্লাহর শাস্তি থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা, আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করা এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন হয়ে পড়া।
এ ছাড়া ঈমানদারদের কাফিরদের অন্ধ অনুসরণ থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এমন অনুসরণ মানুষকে ক্ষতির দিকেই ঠেলে দেয়। ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী প্রকৃত ক্ষতি কখনোই ধন-সম্পদ, পদমর্যাদা বা পার্থিব সুযোগ-সুবিধা হারানো নয়। বরং ঈমান, দ্বিন ও আখিরাত হারিয়ে ফেলাই মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষতি। আর প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে আখিরাতে মুক্তি লাভ করা।