জীবনে সুদিন ও দুর্দিন—দুটিই আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। ইসলামের শিক্ষা হলো, ভালো সময়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করে তাঁর সাহায্য কামনা করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য কামনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ সূরা বাকারা, আয়াত ১৫৩।
ইসলামি শিক্ষায় ধৈর্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধৈর্য তিন ধরনের—বিপদের সময় ধৈর্য, আল্লাহর নির্দেশ পালনে ধৈর্য এবং পাপ থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে ধৈর্য। হাদিসে এসেছে, মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। সুখের সময় সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, আর দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে—দুই অবস্থাতেই তার জন্য কল্যাণ রয়েছে।
বিপদের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুল (সা.)। পবিত্র কোরআনে আল্লাহর জিকিরকে হৃদয়ের প্রশান্তির মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, বিপদ-আপদ, রোগ-ব্যাধি, দুশ্চিন্তা ও কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন এবং উত্তম প্রতিদান দেন।
কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের অগণিত পুরস্কার দেওয়া হবে।’ সূরা যুমার, আয়াত ১০। জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য, সালাত ও আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দেয় ইসলাম। কারণ কষ্টের পরেই আসে স্বস্তি—এটাই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি।