ছয় দফা দাবি নিয়ে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি ময়দানে পৌঁছেছে। শনিবার প্রায় ১২ ঘণ্টার যাত্রা শেষে জোটের শীর্ষ নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর সমাপনী সমাবেশস্থলে পৌঁছায়। এর আগে সকাল ৭টায় ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয় লংমার্চের আনুষ্ঠানিকতা। সোয়া ৮টার দিকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ফেনী ও মিরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় একাধিক পথসভা। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সব পথসভায় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দিতে পারেননি। তবে অগ্রবর্তী প্রতিনিধিদল বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। লংমার্চ ঘিরে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। জাতীয় পতাকা হাতে তারা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে গাড়িবহরকে স্বাগত জানান। চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশের পর একে খান, পাহাড়তলী ও জিইসি মোড়েও ছিল একই চিত্র।
আরও পড়ুন,
- আনোয়ারায় এনসিপি নেতাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম
- ইরানের তিন তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা
- বিয়ের পর ৫০ লাখ লিরার সোনা-নগদ নিয়ে নববধূ আটক
লালদীঘি ময়দানে জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যার পর বাড়তে থাকে ভিড়। সমাপনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা এবং পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
জোটের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিও জানিয়েছে জোটটি। দিনভর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ শেষে এখন লালদীঘির সমাপনী সমাবেশের বক্তব্য ও পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।